
#আনন্দ ব্যানার্জী, কলকাতা: কলকাতার ফুটবল মহলে এখন একটাই আলোচনা — কার হাতে উঠবে আই এস এল শিল্ড? বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মরসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধ্যায় মাঠে নামছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবির। একদিকে মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট মুখোমুখি হবে স্পোর্টিং দিল্লী-র, অন্যদিকে ইস্ট বেঙ্গল এফ সি খেলবে ইন্টার কাশি-র বিরুদ্ধে। দুই ম্যাচের ফলাফলের উপরই নির্ভর করছে ২০২৫-২৬ ইন্ডিয়ান সুপার লিগের শিল্ড জয়ী দলের নাম।

গত রবিবারের উত্তেজনাপূর্ণ কলকাতা ডার্বি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর শিল্ডের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সেই ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান লড়াই দেখেছিল কলকাতা। ফলে শেষ রাউন্ডে পৌঁছে দুই প্রধানের ভাগ্য এখনও খোলা। বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দল সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, একটিমাত্র ভুলই বদলে দিতে পারে গোটা চিত্র।

সবুজ-মেরুন শিবিরে এখন বাড়তি আত্মবিশ্বাসের কারণ ঘরের মাঠ। কোচ সের্জিও লোবেরা-র দল এই মরসুমে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই সাফল্য পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান তারকা জেমি ম্যাকলারেন, দিমি পেত্ৰাতস, মনভির সিং এবং কামিংস -দের উপর বড় দায়িত্ব থাকবে। মাঝমাঠে বল দখল এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকই হতে পারে মোহনবাগানের প্রধান অস্ত্র। সমর্থকদের আশা, প্রথম থেকেই আক্রমণে চাপ তৈরি করে স্পোর্টিং দিল্লী-কে কোণঠাসা করবে দল।

অন্যদিকে লাল-হলুদ শিবিরেও চাপ কম নয়। মরসুমের শুরুটা হতাশাজনক হলেও শেষ কয়েকটি ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গল দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছে। ইন্টার কাশি-র বিরুদ্ধে জয় ছাড়া অন্য কোনও ফল কার্যত তাদের শিল্ড স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে। ফলে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার সম্ভাবনাই বেশি। দলের বিদেশি ফুটবলারদের পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখন ভরসা।

তবে ইন্টার কাশি-কে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আই এস এল-এ প্রথম মরসুম খেললেও তারা একাধিক বড় দলকে চাপে ফেলেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের আর্থিক সমস্যা এবং খেলোয়াড়দের বেতন সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে এসেছে, তবুও মাঠে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে দলটি। শেষ ম্যাচে সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে তারা যে সর্বস্ব উজাড় করে দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই সন্ধ্যা শুধুই দুটি ম্যাচ নয়, বরং আবেগ, গর্ব এবং আধিপত্যের লড়াই। যুবভারতীর গ্যালারিতে কয়েক হাজার সমর্থকের গর্জনে তৈরি হবে এক বৈদ্যুতিক পরিবেশ। শহরের দুই প্রান্তে এখন সবুজ-মেরুন ও লাল-হলুদ আবেগের ঢেউ।

শেষ পর্যন্ত শিল্ড কি থাকবে মোহনবাগানের দখলে, নাকি শেষ মুহূর্তে চমক দেখিয়ে ট্রফি ছিনিয়ে নেবে ইস্টবেঙ্গল — তার উত্তর মিলবে আগামীকালের ফুটবল মহারণে।




