
#শুভজিৎ দাস, রায়গঞ্জ: সরকার পরিবর্তনের পর “বিতর্কের” অবসান। যদিও আবার এক নতুন বিতর্কের শুরু নির্মীয়মান রায়গঞ্জ পৌর বাস স্ট্যান্ড ঘিরে। সোমবার রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে নির্মীয়মান পৌর বাস স্ট্যান্ড পরিদর্শনে আসেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। সঙ্গে ছিলেন নবনির্বাচিত রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী এবং রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক তন্ময় ব্যানার্জি। এদিন রায়গঞ্জের সাংসদ পৌর বাসস্ট্যান্ড নিয়ে একাধিক “খামতি”-র কথা উল্লেখ করেন।

যানজট সমস্যা সমাধানে এই পৌরবাসট্যান্ড এবং রেলওয়ে ফ্লাইওভার তৎকালীন সাংসদ এবং বিধায়কের রাজনৈতিক তরজার অন্যতম কারণ বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল। রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর উদ্যোগে শহরের যানজট সমস্যা সমাধানে পৌর বাস স্ট্যান্ড স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির শিলান্যাস করেন তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। সেই সময় রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল এই পৌর বাসস্ট্যান্ডের জন্য কোটি টাকার আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব দেন।

কিন্তু প্রাক্তন বিধায়ক তথা রায়গঞ্জ পৌরসভা সেই প্রস্তাব “প্রত্যাখ্যান” করেন। মাঝখানে কেটে গিয়েছে বেশ কিছুটা সময়। রাজ্যে ঘটে গিয়েছে নির্বাচনী পালা বদল। সরকার গড়েছে বিজেপি। তাই সোমবারের বাসস্ট্যান্ডের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে কিছুটা নতুন করে শুরু ইঙ্গিত দিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। খতিয়ে দেখেন বাসস্ট্যান্ডের সমস্ত অংশের কাজ। যাচাই করেন নির্মাণ কাজের গুণগতমান।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, যেখানে নাগরিক সুবিধাকেই কোন সরকারি প্রকল্পের প্রাথমিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা সেখানে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের উদ্দেশ্যটাকেই ভিন্নমুখী। বাসস্ট্যান্ডের সংলগ্ন মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন “বিক্ষিপ্তভাবে একটা প্ল্যানিংয়ের কাজ চলছে। তবে আগামী দিনে নতুন সরকার সম্পূর্ণ মানুষের স্বার্থে একটা পরিপূর্ণ বাস স্ট্যান্ড উপহার দেবে রায়গঞ্জবাসীকে।”

এই মুহূর্তে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরীর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন কার্তিক বাবু। তার কথায় বাস বে এবং বাস বের শেড নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। যে ঘরগুলি তৈরি হয়েছে সেগুলিও নিতান্তই ছোট। এক কথায় প্রকল্পটিকে “পরিকল্পনাহীন” বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। বিগত কিছুদিন আগেও এই মার্কেট কমপ্লেক্সের জমি ভরাটের সময় ছাই দিয়ে ভরাটের অভিযোগ ওঠে। সে বিষয়ে কার্তিক চন্দ্র পাল এর মত আগামী দিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।






