#মালবাজার: রাজ্যের ভোট পর্ব মিটেছে সর্বত্র ফলাফল নিয়ে মানুষের মধ্যে চর্চা চলছে। এইরকম পরিবেশে বৈশাখের সান্ধ্যকালীন মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টিতে আবারো বিপর্যস্ত হলো ডুয়ার্সের নাগরাকাটা সহ বিভিন্ন এলাকা। গত কয়েকদিন ধরেই ডুয়ার্সের আকাশে মেঘের আনাগোনা চলছিল। মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে ডুয়ার্সের মাল মহকুমা এলাকার বিভিন্ন জায়গা সহ ভুটান ও কালিম্পং জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ চলে। ভুটান পাহাড়ের জল বিভিন্ন জোড়া দিয়ে প্রবল বেগে নিচে নেমে আসতে শুরু করে। এর ফলেই বিপর্যস্ত হয় নাগরাকাটা ব্লকের সুখানি বস্তি,নাগরাকাটা বস্তি বিজয়নগর এলাকায়।

সুখানি ঝোড়ার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে সুখানি বস্তির ২১/১৬৯ সংসদ এলাকায় প্রায় ২০টি বাড়িতে জল ঢুকে যায়। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে অনেকের বাড়ির জিনিসপত্র ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
পাকলু সাওতাল, হরিল সাওতাল, মুখি সাওতাল মতো ২০ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকেই গত পাঁচ অক্টোবর প্লাবনের কথা মনে করে বাড়ি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে।স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুদামা ওরাও বলেন, কত ৫ অক্টোবর বন্যার পর সুখানি ঝোরার বাঁধের কথা প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে।

বাঁধ নির্মাণ কত জরুরি সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। এখনো বর্ষা শুরু হয়নি তাতেই এই অবস্থা আষাঢ় শ্রাবণের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ঘোরালো হতে পারে।
প্রবল বর্ষণের ফলে হিলা চা বাগানের লোয়ার ডিভিশন এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে জল জমে যায়। রাঙ্গাতি নদীর জল বাধ ভেঙে নাগরাকাটা বস্তি এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে যায়। সুখানি ঝোরা, কুচি ডায়না, গাঠিয়া নদীতে জল বাড়তে দেখেই বামনডাঙ্গা মডেল ভিলেজ এলাকার বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। গত ৫ অক্টোবর এই মডেল ভিলেজ এলাকায় প্লাবনের ফলে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছিল।

বিভিন্ন ঝোড়ার জলোচ্ছ্বাসে নয়াসাইলি, কুর্তি চা বাগানে বেশ কয়েকটি কালভার্ট ভেঙে পড়ে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ত্রান দেওয়া হবে। বুধবার রাতের প্রবল বর্ষণের ফলে মালবাজার শহরের রেলের আন্ডার পাশে জল জমে যায়। ৭,১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সঙ্গে অন্যান্য ওয়ার্ডে যোগাযোগ থমকে যায়। অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জল নামার অপেক্ষায় এদিক ওদিক আশ্রয় নিয়ে। পরে জল খানিকটা কমলে পায়ে হেঁটে যাতায়াত শুরু হয়। কালিম্পং পাহাড়ে বৃষ্টির ফলে মাল, নেওরা চেল নদীতে জলস্ফীতি দেখা যায়।

বৈশাখের এই বৃষ্টির ফলে মাল ব্লকের তেসিমলা
কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়, মেটেলি ব্লকের বিধাননগর ও বাতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বৈশাখের এই বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নিচে নেমে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আকাশ খানিকটা পরিষ্কার হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।






