
#মালবাজার চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (সিনি) নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে ছেলেদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জলপাইগুড়ি জেলার মাটিয়ালী ও ধূপগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে ব্লু আমব্রেলা ডে পালিত হয়। এই উপলক্ষে মাটিয়ালী ব্লকের সোনগাছি চাবাগানের জুনিয়র হাই স্কুল এবং ধূপগুড়ি ব্লকের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি হাই স্কুলে কিশোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট -এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, কিশোর ও কিশোরী শিক্ষার্থীরা এবং CINI-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্লু আমব্রেলা বা নীল ছাতা শিশুদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সমাজের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশু সুরক্ষা, শিশুদের অধিকার, পকসো আইন এবং যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি তথ্যভিত্তিক অধিবেশন পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী শিশুদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং একটি নিরাপদ ও শিশু-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন।

এই প্রসঙ্গে সিনি’র জেলা কোঅর্ডিনেটর বর্ণালী দাস গুপ্ত বলেন, “প্রত্যেক শিশুর একটি নিরাপদ শৈশব পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ব্লু আমব্রেলা ডে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে যৌন নির্যাতন কেবলমাত্র মেয়েদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়—ছেলেরাও এর শিকার হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে আরও তুলে ধরা হয় যে, ছেলেদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অনেক ঘটনা এখনো যথাযথভাবে প্রকাশ পায় না। এই প্রেক্ষিতে সকলকে সামাজিকভাবে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনা সামনে এলে তা অবিলম্বে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের শিশু সুরক্ষা কমিটি এবং চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ জানাতে উৎসাহিত করা হয়।

উদ্যোগী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্লু আমব্রেলা ডে আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ছেলেদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং সুরক্ষা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের নির্যাতন কখনোই ভুক্তভোগীর দোষ নয়। ভয় বা সামাজিক সংকোচ দূরে রেখে বিশ্বাসযোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে এবং নিজের কথা নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারে সেই সেই আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।






