
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ আগামী ২৫ ও ২৬ মে দেশজুড়ে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ধর্মঘটের ডাককে সামনে রেখে বুধবার দেশব্যাপী সমস্ত SBI শাখায় পালিত হল “শোক দিবস”। এদিন ব্যাংক কর্মীরা কালো মাস্ক পরে নিজেদের বিভিন্ন দাবির কথা গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন।

জানা গিয়েছে, State Bank of India স্টাফ ফেডারেশনের ডাকে গত ২ মে থেকে ১৬ দফা দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আগামী ২৫ ও ২৬ মে সর্বভারতীয় ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্মীস্বার্থ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে উদাসীন মনোভাব দেখিয়ে আসছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও লঙ্ঘিত হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি শাখায় স্থায়ী মেসেঞ্জার ও সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ, পাশাপাশি ব্যাংকের বিভিন্ন কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার বিরোধিতা। কর্মীদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় যেমন গ্রাহক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে কর্মীদের উপর চাপও।

ব্যাংক কর্মী সংগঠনের পক্ষে দেবব্রত দাস বলেন, প্রায় ২৯ বছর ধরে SBI-তে স্থায়ী মেসেঞ্জার নিয়োগ হয়নি। ফলে বহু শাখায় দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্রাহক পরিষেবায়। পাশাপাশি ২০২২ সালের পর থেকে নতুন করে সশস্ত্র প্রহরী নিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংক ও এটিএম নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন শাখায় চুরি, ডাকাতি ও এটিএম ভাঙচুরের ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতিতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্যাংকে সাধারণ মানুষের অর্থ সুরক্ষিত রাখা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও সেই বিষয়ে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

এছাড়াও কর্মীদের দাবি, দেশে SBI-র শাখার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও সেই অনুপাতে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যাংকের মুনাফা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে SBI প্রায় ৮০,০৩২ কোটি টাকা লাভ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মী বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ও অতিরিক্ত কাজের চাপের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।






