#মালবাজার: একদিকে খাঁচায় বন্দী হচ্ছে চিতাবাঘ অন্যদিকে খাঁচা পাতা হচ্ছে চিতাবাঘ ধরতে। শুক্রবার ডুয়ার্সের দুই প্রান্তে এই দুই দৃশ্য দেখা গেল। নাগরাকাটা ব্লকের কলাবাড়ি চা বাগানে এদিন একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ খাঁচা বন্দী হয়। গত এক বছরে চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যু ঘটেছে একাধিক শিশুর। জখম হয়েছে বেশ কয়েকজন। চিতাবাঘ ধরতে বনদপ্তর একাধিক খাঁচা পেতেছিল। পরপর চিতাবাঘ ধরা পড়ায় মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

অপরদিকে মাল ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতের থাপা বস্তি এলাকায় এদিন বনদপ্তরের পক্ষ থেকে চিতাবাঘ ধরতে কাঁচা পাতা হয়। থাপা বস্তিতে গত এক সপ্তাহে প্রায় দশটি গবাদি পশু চিতাবাঘের হানায় প্রাণ হারিয়েছে। শিশুরা বিকেলে খেলার মাঠে খেলতে যেতে ভয় পাচ্ছে। এইরকম পরিবেশে বনদপ্তর এদিন ঠাপাবস্তি এলাকায় খাঁচা পাতে।

বনদপ্তরের তৎপরতা সত্ত্বেও ডুয়ার্সের চা বাগান এবং গ্রামাঞ্চলে চিতাবাঘের উপদ্রব কমছে না। প্রায় প্রতিটি চা বাগানে চিতাবাঘের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সূর্য অস্তমিত হতেই চিতাবাঘ সাড়া দিচ্ছে শ্রমিক মহল্লায় কিংবা গ্রামাঞ্চলের গোয়ালে। গত কয়েকদিন আগে মেটাল ব্লকের নাগেশ্বরী চা বাগানে একটি মৃত ও একটি জখম চিতাবাঘ উদ্ধার হয়। গত এক বছরে ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগানে খাঁচা পেতে প্রায় গোটা পচিশ চিতাবাঘ ধরা হয়েছে। তারপরেও কমেনি চিতা বাঘের উপদ্রব।

বেতগুড়ি, ডামডিম, রাঙ্গামাটি সহ বিভিন্ন চা বাগানে চিতাবাঘের উপস্থিতি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বন্যপ্রাণ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্পোরের কর্ণধার শ্যামাপ্রসাদ পান্ডে। তিনি বলেন, ডুয়ার্সের প্রায় দেড়শ টি চা বাগানেই চিতা বাঘের উপস্থিতি রয়েছে। চা বাগানের পরিবেশ চিতাবাঘের স্বাভাবিক বাসস্থান হয়ে উঠেছে। এমত অবস্থায় চা বাগানের মানুষদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যেভাবে বর্ষার সময় আমরা সাথে ছাতা রাখি। রাতে বেরোলে টর্চলাইট হাতে রাখি সেই রকম ভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে।
যদিও বনদপ্তর বনাঞ্চলে চিতা বাঘের শুমারির কাজ শুরু করেছে। সে কাজ সে চলে জানা যাবে বনাঞ্চলে চিতা বাঘের উপস্থিতি কি রয়েছে। কিন্তু চা বাগান গুলিতে এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি কি সংখ্যক চিতাবাঘ রয়েছে রয়েছে। এটাই আতংকের কারণ হয়ে উঠেছে।






