
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, ইসলামপুরঃ পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিজ্ঞান অভিযান। সেই অভিযানের অঙ্গ হিসেবেই উত্তর দিনাজপুর জেলায় আজ আনুষ্ঠানিক সূচনা হল ইসলামপুর হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত এক কৃষি কনভেনশনের মাধ্যমে। জেলার কৃষি পরিস্থিতি, কৃষি সম্ভাবনা এবং তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখেই আয়োজিত হয় এই কনভেনশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানী ডঃ ধনঞ্জয় মন্ডল, মৌটুসি দে এবং ইসলামপুর মহকুমার সহকারী কৃষি অধিকর্তা গুরুপদ বিশ্বাস। চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া ও ডালখোলা ব্লক থেকে প্রায় ১৪০ জন কৃষক ও বিজ্ঞানকর্মী এই কনভেনশনে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ইসলামপুর বিজ্ঞান কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এরপর উদ্বোধনী ভাষণে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির সম্পাদক ডাঃ পার্থ প্রতিম ভদ্র জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিতে সৃষ্ট সংকট এবং তা মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত কৃষির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতার ওপর বিভিন্ন আক্রমণের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

এরপর পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উত্তর দিনাজপুর জেলা কৃষি উপসমিতির আহ্বায়ক যোগেশ চন্দ্র বর্মণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কালোনুনিয়া ধানের চাষসহ জেলার বিভিন্ন কৃষি সম্পদ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জেলার বিজ্ঞান আন্দোলনের প্রবীণ নেতা অসিত ঘোষ মজুমদার কৃষিজমিতে জল সরবরাহের স্বার্থে তিস্তা সেচ প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত চালু করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

পরবর্তী পর্যায়ে তিনজন কৃষিবিজ্ঞানী কৃষিতে বিষাক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করা, ফলচাষের সম্ভাবনা এবং প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে কৃষক প্রতিনিধিদের নানা জিজ্ঞাসার উত্তর দেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। রাসায়নিক ও কৃষিবিষ ছাড়া কীভাবে চাষ লাভজনক করা যায়, সেই বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। কনভেনশনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা বহুজাতিক কোম্পানির বীজ, সার ও কীটনাশকের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তবে সেই লক্ষ্যে কৃষকের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি সাহায্য ও সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে—এমন মত প্রকাশ করেন এক প্রবীণ কৃষক।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সারা জেলা জুড়ে গ্রামে গ্রামে কৃষকদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনা হবে এবং এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।

আজকের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ ইসলামপুর বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদিকা শ্রাবন্তী কর্মকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অংশুমান ঘোষ মজুমদার, অমিত ভগত, দীপঙ্কর দাস, জুলফিকার আলি, কৌশিক সাহা, পথিক ভট্টাচার্য, রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, অভিজিত দাসমুন্সি, নয়ন পাল সহ জেলার বহু বিজ্ঞানকর্মী।




