
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিকল্প রেল সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার দুপুরে, রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে প্রধানত দুইটি বহুদিনের ঝুলে থাকা রেল প্রকল্প—(ক) রায়গঞ্জ–ডালখোলা এবং (খ) গাজোল–ইটাহার–রায়গঞ্জ রেল রুট দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে।

সাংসদের বক্তব্য, এই দুই প্রকল্প বহু আগেই অনুমোদিত হয়ে পিঙ্ক বুক-এ অন্তর্ভুক্ত হলেও বছরের পর বছর বাস্তব কাজ শুরু হয়নি। ফলে মালদা থেকে আলুয়াবাড়ি পর্যন্ত রেলপথে কোনও বিকল্প রুট না থাকায় উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আজও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চল আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বাসস্থল হওয়ায় বিকল্প সংযোগের অভাব আরও সমস্যা তৈরি করে।

স্মারকলিপিতে সাংসদ উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় সুধানী সেতু ভেঙে পড়ার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল—সহ শিলিগুড়ি—এর রেল যোগাযোগ কতটা নাজুক তা স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন পুরো অঞ্চল দেশের মূল রেল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই অভিজ্ঞতা বুঝিয়ে দিয়েছিল যে অতিরিক্ত ও নির্ভরযোগ্য রুট অবিলম্বে প্রয়োজন।

রায়গঞ্জ–ডালখোলা ও গাজোল–ইটাহার–রায়গঞ্জ রেল প্রকল্প কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেই নয়, সামরিক, লজিস্টিক এবং বাণিজ্যিক দিক থেকেও সমান গুরুত্বপূর্ণ—সাংসদ এ কথাও জোর দিয়ে জানান। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর দিনাজপুরসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের রেল অবকাঠামো আরও সুদৃঢ় হবে।

রেলমন্ত্রীকে পাঠানো স্মারকলিপিতে সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল দ্রুত কাজ শুরু ও সম্পন্ন করার জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আশাবাদী যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে এবং বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প দু’টি বাস্তব রূপ পাবে। এছাড়াও এদিন রায়গঞ্জের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের নানা বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন।








