#মালবাজার: ধান পাকার মরশুমে ডুয়ার্স জুড়ে চলছে বুনো হাতির উপদ্রব। বাড়ছে সংঘাত, কোথাও কোথাও হাতির আক্রমণে মৃত্যু ঘটছে মানুষের। আবার মানুষের পাল্টা আক্রমণে বুনো হাতির জখম হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সেই সাথে নষ্ট হচ্ছে ফসলের ক্ষেত। হাতির হানায় ভাঙ্গা পড়ছে মানুষের বাড়িঘর, প্রাথমিক স্কুল এবং আই সি ডি এস সেন্টার। দেখা যাচ্ছে যেখানে খাদ্য সামগ্রী জমা থাকছে সেখানেই হানা দিচ্ছে বুনো হাতির দল। এই ঘটনা শুধু যে মাত্র নির্দিষ্ট একটি এলাকায় হচ্ছে তা নয়, তিস্তা নদীর পূর্ব প্রান্ত থেকে সংকোশ নদীর পশ্চিম প্রান্ত ডুয়ার্স এলাকায় প্রায় প্রতিদিন এর ঘটনা।

গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে ডুয়ার্সের মাল, মাটিয়ালি,নাগরাকাটা, বানারহাট সর্বত্রই প্রতি সন্ধ্যার পর থেকে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে হাতির উপদ্রবে। গত শনিবার রাতে মেটেলি ব্লকে একটি আইসিডিএস সেন্টার সহ দুটি বাড়ি ভেঙে দেয় বুনো হাতির দল। জমা করা খাওয়ার খেয়ে চলে যায়। একই রাতে নাগরাকাটা এলাকায় ঘর ভেঙে জমা চাল খেয়ে হাতি চলে গেছে। দুই দিন আগে আইভিল চা বাগানে এক যুবক স্নান করতে গিয়েছিল। পড়ন্ত বিকেলে আচমকাই এক বুনো হাতি ঝোপের থেকে বেরিয়ে এসে তাকে মেরে ফেলে। কয়েক দিন আগে রাঙ্গামাটি চা বাগানে রাতে ক্ষেতের ধান পাহারা দিচ্ছিল কয়েকজন। আচমকাই হাতির দল চলে আসে ধানক্ষেতে। আক্রমণ করে পাহারারত মানুষের উপরে। মারা যায় একজন।

দেখা গেছে একই রাতে রাঙ্গামাটি, ডামডিম, রানীচেরা, বাতাবাড়ি সহ একাধিক এলাকায় হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বনদপ্তর সীমিত কর্মী নিয়ে মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার মত অবস্থা। একদিকে যেমন হাতির হামলায় ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তখন ফসল বাঁচাতে কেউ কেউ আক্রমণ করছে হাতির দলকে। আগুন জ্বালিয়ে ছুড়ে মারছে, পাথর ছুটছে, তীর মারার ঘটনা ঘটছে। এতে জখম হয়ে হাতির দল আরও উগ্র হয়ে উঠছে।

এইরকম পরিবেশে সংঘাত এড়াতে হলে কি করতে হবে? সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে বনদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষ। পরিবেশ কর্মীরা এইরকম পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। চালসা এলাকার বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী মানবেন্দ্র দে সরকার জানান, গত দুই দশকে উত্তরবঙ্গে বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু, বনের পরিধি বাড়েনি। মানুষের বসতি বেড়েছে। হাতির যাতায়াতের সংকুচিত হয়ে গেছে। বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাদ্য পানীয় না থাকায় হাতির দল মানুষের বসতি এলাকায় হানা দিচ্ছে।

দেখা গেছে তাদের টার্গেট ফসলের ক্ষেত, রেশন দোকান, প্রাইমারি স্কুল, আইসিডিএস সেন্টার। অর্থাৎ যেখানে চাল ডাল আটা মজুত থাকছে সেখানেই হানা দিচ্ছে। এটাই বোঝা যায় পেটের খিদে মেটাতে ওরা হানা দিচ্ছে । পাশাপাশি কষ্টের ফসল বাঁচাতে মানুষ বাধা দিচ্ছে। ফলে সংঘাত বাড়ছে। সংঘাত এড়াতে বনাঞ্চলে খাদ্য সম্ভার গড়ে তোলা দরকার। না হলে দিনের পর দিন এই সংঘাত বাড়বে।

এক বনকর্তার কথায়, দীর্ঘ কয়েক দশকে হাতির খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। বনের লতা গুল্ম,
গাছের পাতা খাওয়ার চাইতে দানাশস্যের উপরে আগ্রহ বেড়েছে। এজন্যেই ফসলের ক্ষেতে হানা দিচ্ছে । বনকর্মীরা অবশ্য সতর্ক আছেন তারা খবর পেলেই হাতির দলকে বনের দিকে ফেরত পাঠাচ্ছে। সংঘাত এড়াতে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন মতামত দিলেও সংঘাত কিন্তু দিন দিন বাড়ছে। এই মুহূর্তেই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেই অনেকের অভিমত।






