
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এক অনন্য প্রয়াস নিয়েছে সাউথ দেবীনগর ডিএসএস স্কুল। কমিউনিটির সহযোগিতায় সেখানে শুরু হয়েছে কমিউনিটি লাইব্রেরি, যেখানে প্রতি শনিবার দুপুর দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত পঠনপাঠন ও বই পড়ার চর্চা করেন এলাকার ছাত্রছাত্রীসহ অভিভাবকেরাও।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কৃষ্ণা সরকার জানান, অভিভাবকেরা স্কুলে খাতা দেখতে এসে প্রায়ই শুধু জানতে চান— “ম্যাডাম, বাচ্চা কত নম্বর পেল লিখে দিন।” এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, অনেকেই পড়তে-লিখতে পারেন না। এই নিরক্ষরতা দূরীকরণই মূল লক্ষ্য নিয়ে কমিউনিটি লাইব্রেরির যাত্রা শুরু।

কেন এমন উদ্যোগ? উত্তরে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নিরক্ষরতার দূরীকরণ, বিশেষ করে মায়েদের। যদি তারা শিখতে পারেন, তাহলে ফার্স্ট জেনারেশন লার্নারের সমস্যাও দূর হবে।”

লাইব্রেরিতে মায়েদের জন্য রাখা হয়েছে সহজপাঠ্য নানা ধরণের বই— রান্নার বই, আলপনার বই, গান, যোগব্যায়ামসহ জীবনের সঙ্গে যুক্ত নানা বিষয়। বইয়ের মাধ্যমে শেখার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত পাঠচর্চার অভ্যাসও গড়ে উঠছে।

শুধু তাই নয়, লাইব্রেরিতে চালু হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ— “প্রয়োজনে দিয়ে যাও, প্রয়োজনে নিয়ে যাও।” অর্থাৎ যার কাছে বই রয়েছে, সে জমা দিতে পারে, আর যাকে প্রয়োজন সে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ‘সহায়িকা প্রশ্ন বিচিত্রা’ পড়ে হলে পরবর্তী ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য জমা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বইয়ের এই বিনিময় ব্যবস্থাকে আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এলাকার সমাজসেবী এবং রায়গঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা বলেন, “শিক্ষিত সমাজের আরও মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে এই উদ্যোগ অনেক বড় সাফল্য পাবে।”

এক অভিভাবক জানালেন, “আমি পড়তে পারি না, কিন্তু আমার সন্তান পারে। তাই এখানে শিখতে এসে খুব ভালো লাগছে।” কমিউনিটি, স্কুল এবং শিক্ষকদের মিলিত প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ এলাকায় এক নতুন শিক্ষাবিপ্লবের পথ দেখাবে— এমনটাই আশা সকলের।






