#মালবাজার: মালবাজার থেকে বড়দীঘি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ত দপ্তরে রাস্তা কবে থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হবে তা জানতে এসে পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকারকে না পেয়ে দপ্তরে তালা লাগিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলো তেশিমলা ও কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নেতা থেকে সাধারণ মানুষ।

মালবাজার শহর থেকে তেশিমলা, কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত ও বড়দীঘি বাজার হয়ে লাটাগুড়ি পর্যন্ত চলে গেছে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য রাজ্য সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে ধরেই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, স্কুল পড়ুয়া থেকে চা বাগানের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে।এই সড়ক ধরে সহজে মালবাজার শহর থেকে ময়নাগুড়ি ও জলপাইগুড়ি যাওয়া যায়। পূর্ত দপ্তরের নিয়ন্ত্রনে থাকা এই সড়কের মালবাজার শহর থেকে বড়দিঘি বাজার পর্যন্ত ৯ কিমি পথ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

২০২২ সালে দশমীর মালনদীর বিসর্জন ঘাটে আচমকা হড়পা বানে ৮ জনের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী পরিবারদের পাশে দাঁড়াতে মালবাজার শহরে আসেন। এই সময় তিনি তেসিমলার এক বেসরকারি রিসোর্টে ছিলেন। তখন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রাতকাটি মেরামত হয়েছিল। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই সেই রাস্তা আবার বেহাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী এই রাস্তা নব নির্মাণের জন্য ১৩.৪৭ কোটি টাকা অনুমোদন করেন। ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তারপর একাধিকবার টেন্ডার হয়েও বাতিল হয়ে যায়। এতেই ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ রাস্তা নির্মাণের দাবিতে বেশ কয়েকবার টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

দিন কুড়ি আগে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেনী কল্যাণ মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইক ও পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকার সহ অন্যান্যরা স্থান পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাস্তার কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় রাস্তা নবনির্মাণ হবে না শুধুমাত্র মজবুতীকরণের কাজ হবে এ নিয়ে পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বচসা বাধে। সেই সময় পূর্ত দপ্তরের নির্বাহীবাস্তুকার সৌভিক সাহা জানিয়েছিলেন সাত দিনের মধ্যে নতুন করে সিডুল বানিয়ে অনুমোদন নিয়ে রাস্তার কাজ শুরু হবে।

সাত দিনের বদলে ১৪ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর তেসিমলা এলাকার মানুষ মালবাজার শহরে এসে পূর্ত দপ্তরের সামনে অবস্থানের সামিল হন। বাগীবাস্তুকার কে না পেয়ে কর্মীদের দপ্তরের মধ্যে আটকে রেখে তালা মেরে অবস্থানে সামিল হন।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আরমান আরশাদ বলেন, আমরা বাস্তুকার সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। উনি সাত দিনের সময় নিয়েছিলেন কিন্তু ১৪ দিন পেরিয়ে গিয়েছে আমরা জানতে এসেছিলাম, রাস্তার কাজের বর্তমান অবস্থা কি রয়েছে। কিন্তু উনি দপ্তরে ছিলেন নেই। ওনাকে ফোন করেছিলাম উনি আসতে পারবেন না বলেছেন। উনি না আসা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন অবস্থান চালিয়ে যাবে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় মাল থানার পুলিশ। তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে শুরু করেন। দিনের আলো শেষ হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন। অন্যদিকে নির্বাহী বাস্তুকার সৌভিক সাহা সন্ধ্যা পর্যন্ত দপ্তরেই আসেননি।

অবশেষে সন্ধ্যার পর মাল পূর্ত দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শেষ হলো। এদিন গোটা দিনমান দপ্তরে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান তেসিমলা কুমলই এলাকার বহু মানুষ। সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাহীবাস্তুকারের দেখা না পেয়ে তারা বিক্ষোভ চলিয়ে যেতে থাকেন। অবশেষে সাড়ে ছটা নাগাদ মাল মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খান্ডাল এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন। জানানো হয় আগামী সোমবার থেকে কাজ শুরু হবে। এরপর বিক্ষোভকারীরা অবস্থান তুলে নেয়।






