
#মালবাজার: আগামী ২৪ অক্টোবর শুক্রবার শহরের শ্যামা পুজোর প্রতিমাগুলির নিরঞ্জন হবে মাল নদীর নিরঞ্জন ঘাটে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে।কিছু ছোট পুজা কমিটি বৃহস্পতিবার বিসর্জন দিয়েছে। তবে প্রতি বছর এই বিসর্জনের ফলে প্রতিমার রঙ ও উপকরণ নদীর জলে মিশে বাড়াচ্ছে জলদূষণ।এতেই উদ্বিগ্ন পরিবেশ প্রেমীরা। এর ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র, বিশেষ করে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক সময় মাছ সমৃদ্ধ মাল নদী এখন অনেকটাই শূন্য।

শুধু বিসর্জন নয়,সারা বছর ধরেই মাল পুরসভার আবর্জনা নদীর ধারে ফেলা হয়,যা মাঝেমধ্যে সরাসরি নদীতেই মিশে যাচ্ছে।বিসর্জন ঘাটের পাশেই জমেছে আবর্জনার স্তূপ।এই দূষিত নদীতেই আগামী ষষ্ঠী তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে শহরের অন্যতম বড় উৎসব- ছট পুজো। যদিও মাল পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি দাবি করেছেন, ‘নিরঞ্জনের পর নদী থেকে সমস্ত কাঠামো, নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়। নদীর বুকের আবর্জনা সাফাই করা হবে।

শ্যামা পুজোর পর মালবাজার শহরে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে পালিত হয় ছট পুজো।এ বছরও শহরের চারটি প্রধান কমিটি-মাল ২ নম্বর ওয়ার্ড, শিববাড়ি,লোকনাথ মন্দির ঘাট ও পানোয়ার বস্তি-জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে।এর মধ্যে তিনটি পুজো মাল নদীর ঘাটে এবং একটি পুজো সুখানি ঝোড়ায় অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিমধ্যেই ঘাটগুলিতে চলছে পরিচ্ছন্নতা ও অস্থায়ী পূজার পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ।ব্যবহৃত হচ্ছে জেসিবি সহ আধুনিক যন্ত্রপাতি।নির্মাণসামগ্রী মজুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।পুজোর দিন শহর ও শহরতলি থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমাগমে ঘাটগুলো উপচে পড়ে।যেহেতু ছট পুজোর প্রধান আচার-অনুষ্ঠান নদীর জলে দাঁড়িয়ে হয়, তাই নদীর দূষণ বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ বছর পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

ঘাটে প্লাস্টিক ব্যবহারে উপর সচেতনতা প্রচার, স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন-সবই করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পুজোর লক্ষ্যে।পরিবেশপ্রেমী স্বরূপ মিত্র বলেন, ‘শুধু ঘাট পরিষ্কার করলেই হবে না,ভক্তদের মধ্যেও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি প্লাস্টিকমুক্ত দূষণহীন পরিবেশ তৈরি করা।’

পুজো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নদীতে পড়ে থাকা কলাগাছ, ফুল, প্রদীপ প্রভৃতি দ্রুত সরানোর কাজ করেন উদ্যোক্তারা ও পুরসভা।পুরসভার সেনেটারি বিভাগের কর্মী কিরিটি মুখার্জি জানান, ‘উদ্যোক্তারা আগে থেকেই আমাদের জানান,আমরা দ্রুত পরিষ্কারে সহযোগিতা করি।’শিববাড়ি ছট পুজো কমিটির উদ্যোক্তা রমেশ গিরি বলেন, ‘আমরা সব সময় পরিবেশের দিকটি মাথায় রেখেই পুজোর আয়োজন করি।সরকারি নির্দেশিকা মেনেই সব আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।’ সব মিলে উৎসবের মাঝে পরিবেশ রক্ষাও আমাদের দায়িত্ব,সেটাও গুরুত্বপূর্ণ দেখতে হবে বলছেন পরিবেশকর্মীরা।






