
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ কালীপূজা ও দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। বর্তমান টুনি বাল্বের যুগেও মোমবাতির কদর কিন্তু একটুও কমেনি। দীপাবলির আগে চাহিদা বাড়লেও বাজারের সেই চাহিদা পূরণ করতে পারছে না শহরের মোমবাতি প্রস্তুতকারকরা। কারণ, পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিকের অভাব।

রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার একটি পুরনো মোমবাতি কারখানায় এখন ব্যস্ততার চূড়ান্ত। সারাদিন-রাত একটানা চলছে মোমবাতি তৈরির কাজ। কারখানার শ্রমিক হুসেইন আলি জানান, “বাইরে থেকে আনা গুড়ো দানা আগুনে গলিয়ে ছাঁচে ঢালা হয়। তার আগে ছাঁচে সোয়াবিন তেল ও কেরোসিন তেলের মিশ্রণ লাগানো হয়। সুতো বসিয়ে গলিত মোম ঢাললেই তৈরি হয় ব্যবহারযোগ্য মোমবাতি।” আরেক শ্রমিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “দুই মাস ধরে বিরামহীন কাজ করছি। এখন ২৪ ঘণ্টাই মোমবাতি তৈরি চলছে, তবুও বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।”

কারখানার মালিক দেবাংশু সাহা বলেন, “কালিপুজোয় টুনি বাল্ব বা প্রদীপ যতই জনপ্রিয় হোক, ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মোমবাতি। তাই বাজারে এর চাহিদা এখনো প্রচুর। কিন্তু দক্ষ শ্রমিকের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রচুর অর্ডার থাকা সত্ত্বেও সময়মতো যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, এখানে প্যারাফিন মোম গলিয়ে ছোট-বড় নানা আকারের লাল, হলুদ, সবুজ রঙের মোমবাতি তৈরি হয়। মোট ১২ জন কারিগর দিনরাত পরিশ্রম করছেন দীপাবলির চাহিদা মেটাতে। দীপাবলির পরও এই মোমবাতির ব্যবহার থাকে। তাই সারা বছরই কারখানা চালু থাকে, তবে উৎসবের মরশুমে চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি।

দেবাংশু সাহার কথায়, “আমাদের তৈরি মোমবাতি রায়গঞ্জ ছাড়াও মালদা, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, করনদিঘি, ডালখোলা, কুশমণ্ডি পর্যন্ত যায়। এবার চাহিদা অনেক বেশি। দিনরাত কাজ করেও সব জায়গায় সরবরাহ করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। তবে এই বাড়তি চাহিদাই আমাদের অনুপ্রেরণা।”

দীপাবলির রাতে যখন শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গা আলোর মালায় সেজে উঠবে, তখন স্থানীয় শ্রমিকদের হাতে তৈরি মোমবাতিই ছড়াবে সেই আলো। তাদের বিশ্বাস—এই আলোর উৎসবেই জ্বলবে তাদের ঘরেরও খুশির প্রদীপ।








