Explore

Search

June 25, 2026 12:12 pm

IAS Coaching

করনদিঘীতে সোনামতি কুম্ভরানি দুর্গার আরাধনা, সিঙ্গারদহে উৎসবের আবহ

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, করনদিঘীঃ চারদিকে যখন দশমীর বিষাদের সুর, তখন করণদিঘির সিঙ্গারদহ গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে সোনামতি কুম্ভরানি দুর্গার আরাধনা, যা প্রায় দু’শো বছর ধরে রাজবংশী সমাজের প্রথা মেনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

প্রথা অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর পরবর্তী প্রথম মঙ্গলবার এই পুজোর সূচনা হয় এবং শনিবারে হয় দেবীর বিসর্জন। এই পাঁচ দিন সিঙ্গারদহ জুড়ে বিধি মেনে দেবীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠীতে নিয়মমাফিক দেওয়া হয় ছাগবলি। রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরাই মূলত এই আরাধনায় অংশ নেন, তবে প্রতিবছরই দূরদূরান্ত থেকে ভক্তদের আগমন ঘটে। আগে পুরোহিতরাই প্রতিমা গড়তেন, কিন্তু এবার গ্রামবাসীর উদ্যোগে কুমোররা প্রতিমা তৈরি করেছেন।

স্থানীয় পুজোর কমিটির সম্পাদক জয়দেব সিংহ জানান, কথিত আছে, পালবংশের এক বংশধর করণদিঘির সিঙ্গারদহে বসবাস করতেন। তাঁর এক বধু একদিন দেবী দুর্গার দর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন স্থানীয় মহিলারা তাঁকে নিতে এলে তাঁরা ঘরে সোনামতিকে দুর্গারূপে দেখতে পান। সেই থেকেই রাজপরিবারের নির্দেশে দশমীর পরের প্রথম মঙ্গলবার থেকে দেবীর আরাধনা শুরু হয়, যা টানা পাঁচ দিন ধরে চলে।” তিনি আরও জানান, সপ্তমীর দিন থেকে মেলা বসে এবং প্রতিবছর ভক্তদের ভিড় হয় উপচে পড়া।

পুজো কমিটির সভাপতি যদুনন্দ সিংহ বলেন, “মায়ের নামে প্রায় দশ একর জমি আছে। সেই জমির ফসল বিক্রি করেই প্রতিবছর পুজোর আয়োজন করা হয়। আমাদের বিশ্বাস, মায়ের আশীর্বাদেই গ্রাম অকল্যাণ থেকে সুরক্ষিত থাকে।”

প্রতি বছর উত্তর দিনাজপুর ছাড়াও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা থেকে অসংখ্য রাজবংশী মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী পুজো দেখতে সিঙ্গারদহে আসেন। সোনামতি কুম্ভরানি দুর্গার আরাধনা এখন রাজবংশী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja