
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ পুজোর মরসুম ঘিরে তাই পালপাড়ায় সরার পটচিত্র আঁকার ব্যস্ততা তুঙ্গে। আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সঙ্গে সংসারের প্রয়োজনও মেটায় এই শিল্প। লক্ষীপুজো শুধু ভক্তির নয়, জীবিকারও আশ্রয় হয়ে উঠেছে এই গৃহলক্ষীদের কাছে। আজও রায়গঞ্জ সুভাষগঞ্জের পালপাড়ার মহিলারা লক্ষীপুজো ঘিরে ব্যস্ত সরায় পটচিত্র আঁকায়। এই পটচিত্র বিক্রি করেই তাদের সংসারের সামান্য খরচ চালানো হয়। চিকিৎসা থেকে শুরু করে জামাকাপড়—সবই মেটে এই শিল্পের আয় দিয়ে।

রাধা রানী পাল বলেন, বিয়ের পর এদেশে এসে শিখেছি। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আগ্রহ কম হলেও আমার পরিবারের প্রতিটি মেয়ে এই কাজ রপ্ত করেছে। এই পটচিত্র এঁকেই ঘরে লক্ষী রূপে অর্থ আসে। প্রতিমা পাল জানান, এবারে প্রায় ৫০০ সরা আঁকার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, কাজ শিখেছি। একলক্ষী, দুইলক্ষী থেকে শুরু করে নারায়ণ সহ লক্ষী ও পাঁচলক্ষীও আঁকছি।

শুধু বয়স্করাই নয়, ছোটরাও সমান আগ্রহী। স্কুল পড়ুয়া খুদেরা জানায়, চাকরি পাওয়া কঠিন শুনেছি, তাই এই কাজ শিখে রাখছি। উত্তর পালপাড়ার জ্যোৎস্না পাল সংসার চালাতে আঁকাকেই হাতিয়ার করেছেন। এতেই তার ভালো কাটে। আরেক মহিলা রাখী পাল বলেন, “সরার ওপর লক্ষী, সরস্বতী, মনসা, দুর্গা—সব দেবদেবীর ছবি এঁকে পুজোর দিনগুলোতেও আমরা ব্যস্ত থাকি।

অন্যদিকে কবিতা পাল বলেন, আমি বাবার কাছে এই কাজ শিখেছি। এখন পরিবারের সকলেই আঁকে। এবারে প্রায় এক হাজার সরায় প্রতিমার ছবি আঁকছি। পাইকাররা অনেকটা নিয়ে গেছে, বাকিগুলোও চলে যাবে। এই পটচিত্রই আমাদের ভরসা।









