Explore

Search

June 25, 2026 1:23 pm

IAS Coaching

দশমীতে রায়গঞ্জের খাদিমপুরে অন্য রূপে দুর্গাপুজো, দেবী বালাইচণ্ডীর আরাধনায় গোটা গ্রাম

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ দশমীতে বাংলা যখন প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতিতে মগ্ন, বিষাদের সুর ছড়িয়ে পড়ে, তখন রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে খাদিমপুর গ্রামে দেখা গেল একেবারেই ভিন্ন চিত্র। শারদীয়া উৎসবের সমাপ্তি লগ্নে যখন সর্বত্র বিদায়ের সুর, তখনই আনন্দে মেতে ওঠে খাদিমপুর। কারণ, এদিনই শুরু হয় তাদের নিজস্ব দুর্গারূপী দেবী বালাইচণ্ডীর পুজো। শতাধিক বছরের এই ঐতিহ্যকে ঘিরে গ্রামে শুরু হয়েছে ধুমধাম। ষষ্ঠীর দিন থেকেই গ্রামবাসীরা নিরামিষ আহার শুরু করেন, আর দেবীর পুজো চলবে টানা কয়েকদিন। তারপর বসবে বড় মেলা।

খাদিমপুরের দেবী চতুর্ভুজা, হাতে অস্ত্র থাকলেও মহিষাসুর নেই দেবীর পদতলে। দেবীর সঙ্গে রয়েছেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। গ্রামের প্রবীণরা জানালেন, এই পুজোর বয়স সঠিকভাবে কেউ বলতে না পারলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এই রীতি। পুজো কমিটির সম্পাদক গোপাল চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমাদের কয়েক প্রজন্ম ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। নবমীর রাতে পুজো শুরু হবে, সারাদিন চলবে।

এই পুজোতে এখনও বলিপ্রথা চালু রয়েছে। পাঠাবলি ও পায়রা বলি দেওয়া হলেও ভোগ রান্না হয় না, বরং ফলমূল দিয়েই দেবীর পূজা সম্পন্ন হয়। গ্রামের মানুষ দেবীকে ভীষণ জাগ্রত বলে বিশ্বাস করেন। পুজো কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ বর্মণ জানান, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত গ্রামবাসীরা নিরামিষ ভোজন করেন, একাদশীতে তারা মাছ খান। এই গ্রামে একটিমাত্র পুজো হয়—বালাইচণ্ডীর।

পুজো উপলক্ষে বহু আত্মীয়স্বজন ও দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন গ্রামে। মন্দিরের দায়িত্বে থাকা সুরেশ বর্মণ বলেন, “আমাদের কাছে এই বালাইচণ্ডীর পুজোই আসল দুর্গাপুজো। দশমীর দিন যখন সারা বাংলায় বিদায়ের সুর, তখন খাদিমপুর গ্রামে দেবী বালাইচণ্ডীর আরাধনায় উচ্ছ্বাসে ভেসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja