
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ হাতিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও একেবারেই অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন অনিরূদ্ধ ওরফে গৌতম সিনহা। সেই সাদামাটা ভাবধারার প্রতিফলন ঘটল তাঁর অবসর গ্রহণের দিনেও। বৃহস্পতিবার স্কুল চত্বরেই সহকর্মী, পড়ুয়া ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় তিনি নিলেন না কোনো উপহার। ছাত্রছাত্রীদের হাতে ধরা নানা উপহার সসম্মানে ফিরিয়ে দেন। শুধুমাত্র ফুল, স্মারক, ছাত্রদের হাতে আঁকা ছবি ও মানপত্র গ্রহণ করেই বিদায় নিলেন তিনি কর্মজীবন থেকে।

এমন এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখে স্বভাবতই আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত সকলে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মী, পরিচালনা সমিতির সদস্য থেকে শুরু করে অভিভাবকেরাও জানান, আজকের ভোগবাদী সমাজে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ী।

স্কুলের পরিচালনা সমিতির সভাপতি অরিজিৎ ঘোষ বলেন, “অনিরূদ্ধবাবু সবসময়ই সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তাঁর বিদায়ে আমরা এক বিশাল শূন্যতা অনুভব করছি। তবে তাঁর এই উপহার না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে শিক্ষাজগতের কাছে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

অভিভাবক গৌতম দাসের মতে, এমন একজন প্রধান শিক্ষক যিনি কর্মজীবনে যেমন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি বিদায়ের মুহূর্তেও মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তিনি নিঃসন্দেহে প্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন আগামীর প্রজন্মের কাছে।

এদিনের সংক্ষিপ্ত ও অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্র নাথ দত্তের নামে একটি স্মার্ট ক্লাস রুম এবং স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য তৈরি নতুন মিড ডে মিলের ডাইনিং হলের দ্বারোদঘাটন করা হয়। এছাড়াও স্কুলের প্রাক্তন এক পড়ুয়ার দেওয়া স্কুলের নামাঙ্কিত গ্লোসাইন বোর্ডের সূচনা হয়।

অনিরূদ্ধ বাবু বলেন, আমার কাছে আর পাঁচটা কাজের দিনের মত আজও স্মার্ট ক্লাস রুম উদ্বোধন হল। ছাত্রদের জন্য ডাইনিং হল খুলে দেওয়া হল। এছাড়াও সিড়ি সমস্যার সমাধান করতে চেয়ে যে চিঠি করেছিলাম, আজ তার উত্তর এল। এভাবেই সারাদিন কাটালাম। আমার কাছে অবসর বলে কিছু নেই, অন্যক্ষেত্রে আরও বেশি সময় দিতে পারব।

এদিকে এদিন স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ থাকলেও উপস্থিত ছিলেন জীবনরেখা হাসপাতাল প্রতিনিধি, স্কুলের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা, পরিচালনা সমিতি এবং প্রাক্তন ও বর্তমান বহু গুণমুগ্ধ পড়ুয়ারা।






