
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ দুর্গাপুজো মানেই শহরে আনন্দের রঙিন আবহ। কিন্তু বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর রূপাহার যেন প্রতি বছরই হয়ে ওঠে এক “পুরুষ শূন্য গ্রাম”। প্রায় ১২০টি বৈশ্য পরিবারের পুরুষেরা পঞ্চমীর দিন থেকেই ঢাক কাঁধে নিয়ে ছুটে যান দিল্লি, গান্ধীনগর, আসাম, অরুণাচল কিংবা নেপালের মতো দূর প্রান্তে। সঙ্গে যায় বয়সে একটু বড় ছেলেরাও। তাই মহিলারা আর শিশুদের নিয়েই থেকে যায় গ্রাম।

এদিন উত্তর রূপাহারে গিয়ে দেখা গেল ঢাকিদের ব্যস্ততা। প্রবীণ ঢাকি ঝড়ু বৈশ্য জানালেন, “পেটের টানে বিদেশেও গিয়ে ঢাক বাজাতে হয়। ঢাক না বাজালে সংসারে জামাকাপড় কেনা, পুজোয় আনন্দ করা—সবই অসম্ভব।”

ঢাকিদের স্ত্রীদের কথায় উঠে এলো এক অন্য বাস্তব। সুমি বৈশ্য আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের কাছে দুর্গাপুজো মানেই একাকিত্ব। স্বামী বাড়ি ফেরে ৪-৫ দিন পরে। তখন নতুন জামা, শাড়ি নিয়ে এলে তবেই মনের আনন্দ করি।”

প্রকাশ বৈশ্যের কথায় ফুটে উঠল জীবিকার টানাপোড়েন— “আমাদের গ্রাম থেকে ১০০ জনেরও বেশি ঢাকি বাইরে যায়। আমি নেপাল-অরুণাচল যাই ঢাক বাজাতে। বাড়ির জন্য মন খারাপ হলেও, নির্ধারিত টাকা ও বকশিস নিয়ে ঘরে ফিরলেই আসল আনন্দ।”

এদিকে সুনিতা বৈশ্য বললেন, “গ্রামের খুদে বাচ্চাদের বাদ দিলে প্রায় সবাই পঞ্চমীর বিকেলেই বেরোয়। একাদশীতে ফেরে। এই কয়েক দিন আমরা মহিলারা মিলে সময় কাটাই। স্বামীরা ফিরলে তখনই একসাথে পুজোর আনন্দ করি।”

শহরে যখন মানুষ পরিবার নিয়ে মাতেন উৎসবে, তখন উত্তর রূপাহারের মহিলারা-শিশুরা অপেক্ষায় থাকেন ফেরার পথে স্বামী-ছেলেদের জন্য। আর ঢাকের তালে মানুষ যতই নেচে উঠুক না কেন, ঢাকিদের মনে বাজতেই থাকে ঘরে ফেরার সুর।








