
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ বেহাল বিদ্যুৎ পরিষেবায় নাজেহাল বামুনগ্রাম হাসিমুদ্দিন হাই স্কুল। দীর্ঘদিন ধরেই কম ভোল্টেজ এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভুগছেন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ। পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম, সর্বত্রই প্রভাব পড়ছে এই সমস্যার কারণে। একাধিকবার বিদ্যুৎ দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান।

এই পরিস্থিতিতে এবার রাস্তায় নামার ডাক দিল হাসিমুদ্দিন হাই স্কুলের পড়ুয়ারা। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণ-ডেপুটেশন দেওয়ার। আগামী দিনে WBSEDCL এর রায়গঞ্জ কাষ্টমার কেয়ার সেন্টারের স্টেশন ম্যানেজারকে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে বলে জানান পড়ুয়ারা।

স্কুলের ছাত্রী মনসুরা খাতুনের কথায়, “আমরা ক্লাসে বসে ঠিক মতো পড়তে পারি না। ফ্যান চলে না, আলো কম থাকে। পরীক্ষা আসছে, তবুও কোনো সমাধান হচ্ছে না।” সহপাঠী ইসমিত আলী বলেন, “বিদ্যুৎ থাকলেও ভোল্টেজ এত কম যে কম্পিউটার ল্যাব বা প্রোজেক্টর ব্যবহার করা যায় না। পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।” সামিম আখতার ও ডারেনা খাতুনও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, তারা আর সহ্য করবে না এই অবহেলা।

অভিভাবক নজরুল ইসলামের দাবি, “আমরা বহুবার অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু দপ্তরের উদাসীনতায় কোনো লাভ হয়নি। এবার সন্তানদের সঙ্গে আমরাও ডেপুটেশনে সামিল হবো।” অপরদিকে মুনমুন ঠাকুর জানান, “শিক্ষা যদি আলো ছড়ায়, তবে বিদ্যুতের অভাবে সেই আলোই আজ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।”

এই গণ-ডেপুটেশন উপলক্ষে খুদে পড়ুয়ারা ও তাদের পরিবার একটি বিরাট সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তর এবার সমাধানে এগিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। এদিকে, বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার মানু চন্দ্র বর্মনের দাবি, জমি অধিগ্রহণ জনিত সমস্যার কারনে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার বসানো যাচ্ছে না। তবে শীঘ্রই এর সমাধান করা হবে।








