
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ সদ্য মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের টেট (TET) সংক্রান্ত রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM) সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নীতিগত ও আইনি সহযোগিতার আবেদন জানালো। এদিন উত্তর দিনাজপুর জেলার ডিএম অফিসে জমা দেওয়া এই স্মারকলিপিতে সংগঠনটি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের রায়টির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়োগের তারিখ নির্বিশেষে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতা করা সকল শিক্ষকের জন্য টেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সারা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের চাকরির নিরাপত্তা ও জীবিকা সংকটের মুখে ফেলেছে বলে দাবি করছে শিক্ষক সংগঠনটি।

ABRSM-এর রাজ্য সম্পাদক বাপী প্রামানিকের বক্তব্য, আরটিই আইন, ২০০৯ এবং ২৩শে আগস্ট ২০১০ তারিখের এনসিটিই (NCTE) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১০ সালের আগে বৈধভাবে নিযুক্ত শিক্ষকদের টেট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ বর্তমান রায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন উপেক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে বহু অভিজ্ঞ শিক্ষক চাকরির অনিশ্চয়তায় ভুগবেন।

উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি বাপ্পাদিত্য সরকার বলেন, “বহু বছর ধরে শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োজিত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপর হঠাৎ করে টেট চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য। এর ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।”

জেলা সম্পাদক অনুপম দাস জানান, এই রায় কার্যকর হলে সারা ভারতে প্রায় কুড়ি লক্ষ এবং শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে লক্ষাধিক শিক্ষক প্রভাবিত হবেন। তাঁর অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা শিক্ষাব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, “ABRSM দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন হিসেবে সারা ভারত জুড়ে এই কর্মসূচি পালন করছে। উত্তর দিনাজপুর থেকেও আজ ডেপুটেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হলো যে, ২০১০ সালের আগে এবং ২০০৯ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিযুক্ত শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার দ্রুত নীতিগত বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”

আজকের ডেপুটেশন কর্মসূচিতে জেলা শাসকের অফিসে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী প্রামাণিক, রাজ্য সহ সভাপতি সুব্রত সরকার, অঙ্কুশ মৈত্র, সঞ্জিত দাস, মনোজ চক্রবর্তী সহ প্রায় ৫০ জন শিক্ষক।






