
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ অল্প বয়সে ধূমপান বা অ্যালকোহল খাওয়া অনেকের কাছেই অভ্যাসের বিষয়। কিন্তু এর ফল কী দাঁড়াতে পারে, তা জানলে হয়তো অনেকেই আর হাত দেবেন না এই মাদকে। সম্প্রতি Elsavier এর Health Science Review পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে—মধ্যবয়সে এই ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহার করলে বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

গবেষণাটি করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের শুভদীপ সাহা, প্রিয়া দাস, তনু দাস, পার্থ দাস, রঞ্জন রায় এবং অধ্যাপক তমাল বসু রায়। তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রামাণ্য গবেষণার তথ্য একত্রিত করে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলাফল বিশ্লেষণ করে গবেষক শুভদীপ সাহা বলেন, দেখা গেছে মধ্যবয়সে ধূমপান বা অ্যালকোহল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১.৩১ গুণ বেশি। বিশেষ করে ধূমপানকারীদের ঝুঁকি আরও বেশি প্রায় ১.৭৬ গুণ।

তাঁর কথায়, অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলেও সব গবেষণায় একইরকম স্পষ্ট ফল মেলেনি। গবেষকদের মতে, ডিমেনশিয়া, অ্যালঝেইমারস বা কগনিটিভ ডিসঅর্ডার (মস্তিষ্কজনিত স্মৃতিভ্রংশ) শুধু ব্যক্তিকেই নয়, তার পরিবারকেও ভোগান্তিতে ফেলে। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন, এবং জনসংখ্যার বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়বে।

গবেষক তথা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড তমাল বসু রায় বলেন, উন্নয়নশীল দেশে এ সমস্যা আরও ভয়াবহ হতে পারে, কারণ এখানে অনেক মধ্যবয়সী মানুষই নিয়মিত ধূমপান বা অ্যালকোহলের সঙ্গে যুক্ত। যদি এখনই অভ্যাস না বদলায়, তবে আগামী দশকে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে।

চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করেছেন, ডিমেনশিয়ার কার্যকর চিকিৎসা এখনো সীমিত। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় ভরসা। সেই প্রতিরোধ শুরু করতে হবে মধ্যবয়স থেকেই—ধূমপান ছাড়তে হবে, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে হবে। এক কথায়, আজকের ছোট অভ্যাসই কাল বার্ধক্যে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।








