Explore

Search

June 25, 2026 10:03 pm

IAS Coaching

বিনা পারিশ্রমিকে বছরভর টিউশন, উড়ানের ‘সেরা শিক্ষক’ সুজন

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শিক্ষক দিবস দিনটি মূলত শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপনের দিন। তবে শিক্ষক মানে কি শুধু বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক বা পেশাদার মানুষটিই? উত্তর একেবারেই “না”। শিক্ষক হল সেই ব্যক্তি, যিনি পেশার গণ্ডির বাইরে থেকেও সমাজে শিক্ষা প্রসারে অবদান রাখেন, স্বেচ্ছায় আলো জ্বেলে দেন অন্ধকারের মাঝে। তেমনই এক মানুষ রায়পুর নিবাসী সুজন দাস। বয়স মাত্র ২৮। স্নাতকোত্তর পাশ করার পাশাপাশি করেছেন ডি.এল.এড। বয়সে তরুণ হলেও চিন্তায়-আচরণে তিনি যেন এক অন্য আলো।

প্রতিদিন বিকেলে রায়পুর গ্রামের মাঠের বিশাল বটগাছের তলায় বসে গ্রামের ৩২ জন শিশুকে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে পড়ান। কোনো পারিশ্রমিক নেন না, নেই কোনো প্রত্যাশা। কেবল একটাই লক্ষ্য—গ্রামের কোনো শিশুই যেন স্কুলছুট হয়ে না যায়। শিশুরা বই-খাতার বাইরে তার কাছ থেকে শেখে জীবনবোধ, অনুপ্রেরণা আর আত্মবিশ্বাস।

এই পথচলা সহজ ছিল না। অনেক বাধা, অনেক প্রশ্ন, কিন্তু সুজনের চোখে নেই ক্লান্তি বা হাল ছেড়ে দেওয়ার ভ্রূকুটি। বরং আছে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি আর অদম্য চেষ্টা। তার কাছে শিক্ষাদান মানে সমাজকে ফেরত দেওয়া, শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো।

এবারের শিক্ষক দিবসে উড়ান পরিবার যখন এই তরুণ শিক্ষককে ‘সেরা শিক্ষক’ হিসেবে সংবর্ধিত করল, তখন তার চোখেমুখে ফুটে উঠল লজ্জা মেশানো গর্ব। সুজন বলেন, এটা আমার দায়িত্ব, তাই করছি। উড়ানের কর্ণধার শুভঙ্কর ঘোষ বলেন, বিশেষ কিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে আমরা কথা দিলাম—এই সংগ্রামে আমরা তার পাশে থাকব। কারণ সুজনরা আছেন বলেই, সমাজ এখনো আশায় বুক বাঁধতে পারে।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja