Explore

Search

June 25, 2026 10:05 pm

IAS Coaching

স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ঘিরে চাঞ্চল্য, ব্যাগে মিলল সুইসাইড নোট

#রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জ শহরের একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর ব্যাগে মেলে একটি সুইসাইড নোট। চিঠিতে বাবামায়ের উদ্দেশে লেখা শেষ কিছু কথা। সম্প্রতি এই ঘটনার জেরে স্কুলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা ছুটে যান স্কুলে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওই ছাত্রী সকালে স্কুলে আসে। প্রথম ক্লাসের বিরতির সময়ে ব্যাগ গুছাতে গিয়েই সহপাঠীরা দেখতে পায় একটি ভাঁজ করা চিঠি। কাগজে লেখা, “আমি বাঁচতে চাই না… আমার ভুল হলে আমাকে মাফ করে দিও মা, বাবা।” সহপাঠীরা ভয়ে কেঁপে উঠে তৎক্ষণাৎ শিক্ষকদের খবর দেয়।

শিক্ষকরা দ্রুত মেয়েটিকে আলাদা কক্ষে নিয়ে কথা বলেন। চোখে জল, মুখে আতঙ্ক— ছোট্ট মেয়েটি নীরব। স্কুলের শিক্ষকরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এরপর বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়। এমন ঘটনা শুনে অন্য এক অভিভাবক বলেন, “আমরা ভাবতেই পারিনি এত ছোট্ট মেয়েটি এমন মানসিক চাপে ভুগছে। পড়াশোনা, সামাজিক চাপ—সব মিলিয়ে হয়তো নিজেকে অসহায় মনে করেছে।”

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “শুধু একাডেমিক নয়, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমরা যত্নবান রয়েছি। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। মেয়েটিকে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।” মেয়েটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের মেয়ে খুব ভালো পড়াশোনা করে। আমরা কখনো ভাবিনি সে এমন কিছু লিখবে। হয়তো আমরা তার কথা মন দিয়ে শুনতে পারিনি। আমরা শুধু চাই সে সুস্থ হয়ে উঠুক।”

রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সের এই পর্যায়ে শিশুদের আবেগী চাহিদা অনেক বেশি। ছোট ছোট মানসিক আঘাত বা অবহেলাও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, পরিবার ও শিক্ষকদের আরও বেশি সময় দিতে হবে সন্তানদের, তাদের মনের কথা শুনতে হবে।

ঘটনার পর স্কুলে শিক্ষকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সুরক্ষার জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সেশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জ শহরের মানুষও এই ঘটনায় বিচলিত। একটি ছোট্ট মনের অসহায়তা যেন সবার সামনে বড় বার্তা রেখে গেল—শিশুদের পাশে থেকে তাদের অনুভূতি শোনার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল এই ঘটনা।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja