
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ ৩১শে আগস্ট থেকে ৩রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্টারলকিংয়ের কাজের জন্য বাতিল করা হয়েছে কুলিক এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর কোলকাতা এক্সপ্রেসসহ এক ডজনেরও বেশি কলকাতা মুখী ট্রেন। এর জেরে সোমবার রাতে ভিড় উপচে পড়ল রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে। কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানুষজন কেউ ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছেন, কেউ অফিসের কাজে, আবার কেউ পুজোর বাজারের মালপত্র কিনতে রওনা দিয়েছেন। ট্রেন বাতিল রাখার এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

ব্যবসায়ী রথীন নাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুজোর মুখে এত ট্রেন বাতিল হওয়ায় আমরা ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছি। বাজারে মাল আনতে গেলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।” কলেজ পড়ুয়া দেবাশীষ দে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসায় প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছে। বাসে সিট মেলাই দায়, আর ভাড়াও লাগছে বেশি।”

দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত আনন্দ সরকারকে নিয়ে আত্মীয়রা সোমবার রাতে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। মঙ্গলবার সকালে বেঙ্গালুরু যাওয়ার ট্রেন ধরার কথা তাঁর পরিবারের। কিন্তু ট্রেন বাতিল থাকায় শেষ মুহূর্তে কষ্ট করে দুটি বাসের সিট জোগাড় করতে হয়েছে তাঁদের। পরিবারের এক সদস্য বললেন, “এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভোগের। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে ভিড় বাসে যাত্রা করা খুবই কষ্টকর।”

এদিকে, সুযোগ বুঝে বাস গুলো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। শিলিগুড়ি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রূপেশ নন্দী বলেন, “ট্রেন নেই বলে মানুষ বাধ্য হয়ে বাস ধরছে। এই সুযোগে বাস গুলো ইচ্ছে মতো ভাড়া নিচ্ছেন। কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।” ট্রেন বাতিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের এই দুর্দশা এখন রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই দাবি তুলেছেন, পুজোর মুখে এই ধরনের ইন্টারলকিং কাজ পিছিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।









