
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ আগে ছিল ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের তকমা। কিন্তু দুই বছর আগে নবনির্মিত চার লেনের রায়গঞ্জ বাইপাস চালু হওয়ার পর রূপাহার থেকে রায়গঞ্জ হয়ে বারোদুয়ারী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তার গুরুত্ব কমে যায়। সম্প্রতি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই রাস্তা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ পূর্ত দপ্তরের হাতে তুলে দেয়। আর এর পরই রূপাহার বিলের ওপর তৈরি রূপাহার সেতুর পাশে লাগানো হল ‘দূর্বল সেতু’ বা Weak Bridge-এর বোর্ড। ভারী যান চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে সেতুর ওপর ভারী যানবাহন যাতায়াত বন্ধের সরকারি নির্দেশ কার্যত কাগুজে হয়ে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ। প্রতিদিনই বালি, পাথর বোঝাই লরি এবং অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল করছে এই সেতুর ওপর দিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুব্রত দেবপাল বলেন, “রূপাহার ব্রিজ বহু পুরোনো। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ না করলে যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

রূপাহার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মনীন্দ্র সরকার বলেন, “এই সেতুটি রায়গঞ্জ শহরের সঙ্গে রূপাহার এবং আশেপাশের গ্রামাঞ্চলকে যুক্ত করেছে। সেতুটি যদি অচল হয়ে যায়, তা হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে বড় প্রভাব পড়বে। তাই অবিলম্বে সেতুর সংস্কার এবং বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রূপাহার ব্রিজের বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেন। পূর্ত দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, সেতুর পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন শুরু হয়েছে। শিগগিরই সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।








