
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ অভাবের সংসারে স্বপ্ন দেখা কঠিন। তবুও সেই স্বপ্ন যদি লড়াই করে বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা শুধু পরিবারের নয়, জেলারও গর্বের বিষয়। এমনই এক অনুপ্রেরণার নাম রায়গঞ্জের কমলাইয়ের বাসিন্দা প্রীতম বর্মন। ভূপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠের এই ছাত্র আর্থিক সঙ্কটকে সঙ্গী করেও ক্যারাটে খেলায় সাফল্যের দৌড়ে উঠে এসেছে জাতীয় স্তর পর্যন্ত।


প্রীতমের বাবা অনিমেশ বর্মন একজন সামান্য ক্যাজুয়াল ইলেকট্রিক কর্মী। মা কল্পনা বর্মন গৃহিণী। সংসারের সীমিত আয় দিয়েও ছেলের খেলাধুলার খরচ মেটানো কঠিন। তবুও প্রীতমের সাফল্যের জন্য পরিবারের অদম্য সমর্থন রয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক উৎপল গোস্বামী বলেন, “প্রীতম শুধু খেলাতেই নয়, পড়াশোনাতেও সমান ভালো। পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত অনুশীলন করে সে। অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং বাধ্য ছাত্র। ক্যারাটে খেলায় যে প্রথম হয়, শুধু সেই জাতীয় স্তরে খেলতে পারে। প্রীতম এবার সেই সুযোগ পেয়েছে। আমাদের স্কুলের গর্ব সে।”

প্রীতমের কোচ অরুন কুমার দাস জানান, প্রীতম দুর্গাপুর ক্যারাটে অ্যান্ড সেল্ফ ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেয়। সপ্তাহে দু’দিন দুর্গাপুরে গিয়ে অনুশীলন করে, বাকি দিনগুলোতেও বাড়িতে সময় বের করে ট্রেনিং চালিয়ে যায়। “ক্যারাটে খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের পাশাপাশি সঠিক সরঞ্জাম ও পুষ্টির জন্য প্রচুর খরচ হয়। প্রীতম যদি আর্থিক সহায়তা পায়, তাহলে তার সম্ভাবনা আরও অনেক দূর এগোবে। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতার আগে সে আমার বাড়িতেও বাড়তি অনুশীলন করেছে। প্রীতমের স্কুল থেকেও হলরুম অনুশীলনের জন্য কিছুদিনের জন্য দেওয়া হয়েছিল। সকলের সাহায্যই ওর সাফল্যের বড় শক্তি।”

এদিন কোলকাতা রাজ্য গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়ে খুশীতে ডগমগ প্রীতম বলে, ৪টে জেলাকে হারিয়েছি। ভালো খেলা হয়েছে। আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে জাতীয় গেমস খেলতে যেতে হবে। তবে, আমাদের গ্রামের পরিবেশে ট্রেনিং করার কোনো পরিকাঠামো নেই। সেটা পেলে আগামী দিনে এই খেলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম।

অভাবকে উপেক্ষা করে সাফল্যের লড়াই চালিয়ে যাওয়া প্রীতম বর্মন আজ রায়গঞ্জের ক্রীড়া মহলে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। আর্থিক সহায়তা পেলে এই প্রতিভাবান কিশোর জাতীয় স্তরের মঞ্চে শুধু নিজের নয়, গোটা জেলার নাম উজ্জ্বল করবে বলেই আশা ক্রীড়াপ্রেমীদের।






