
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ থানার নওদা অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় গামারী নদীকে বাঁচাতে এবার স্কুলের প্রকল্পে তুলে আনার উদ্যোগ নিল দরিমানপুর ভানুমতী শিডিউল কাস্ট হাইস্কুল। স্কুলের নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য গামারী নদীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হল এক বিশেষ প্রকল্পভিত্তিক আলোচনা চক্র।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ড. ভাস্কর দত্ত বলেন, স্থানীয় বিষয় নিয়ে প্রজেক্ট রচনা করলে কপি করার সুযোগ থাকে না, বরং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকশিত হয়— এই লক্ষ্য নিয়েই স্কুলের এই উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকার ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগও পায়।

আলোচনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. বৃন্দাবন ঘোষ। তিনি জেলার মৌজা ভিত্তিক ও অঞ্চল ভিত্তিক মানচিত্র, গামারী নদীর বিশদ মানচিত্র ও চার্ট প্রদর্শন করে নদীটির ইতিহাস ও বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। মজে যাওয়া নদীর ফলে এলাকায় সেচ সমস্যা, কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। ড. ঘোষ আহ্বান জানান, “গামারী নদীকে বাঁচাতে হলে সকলকেই সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”

আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। শেষপর্বে গামারী নদীকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ভূগোল শিক্ষিকা দুলু রানী সরকার আলোচনার প্রশংসা করে বলেন, “নতুন নতুন বিষয়ে এমন আলোচনা হলে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি জ্ঞানার্জন করবে এবং নিজের মাটির সঙ্গে সংযোগ আরও গভীর হবে।”

কালের করাল গ্রাসে এবং অযত্নে উত্তর দিনাজপুরের অনেক নদী হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই পদক্ষেপ কার্যকরী বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।








