
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ ইটাহার থানার সুই ও গামারী নদীর তীরে অবস্থিত দিগনা হাইস্কুলে বুধবার দুপুরে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশে উদ্বোধন হলো বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যিক ড. বৃন্দাবন ঘোষের রচিত “উত্তর দিনাজপুর জেলার নদনদীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি” গ্রন্থটির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। গ্রন্থটির উদ্বোধন করেন ড. মেঘনাদ সাহা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মুকুন্দ মিশ্র।

জানা গেছে, এটি ড. ঘোষের ৩০তম প্রকাশিত গ্রন্থ। ১৭৬ পৃষ্ঠার এই বইটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত, যেখানে সুচারুভাবে বর্ণিত হয়েছে জেলার পরিচিতি, সভ্যতা বিকাশে নদনদীর ভূমিকা, জেলার চলমান ও লুপ্তপ্রায় নদী, নদীকেন্দ্রিক হাট ও মেলা, নদীর সমস্যা ও সম্ভাবনা প্রভৃতি বিষয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখানে উত্তর দিনাজপুর জেলার মোট ৩৬টি নদীর তথ্য সংকলিত হয়েছে। প্রতিটি নদী ও অধ্যায়ের শেষে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রন্থে রয়েছে ১৪টি সাদা-কালো ছবি, ৫৬টি রঙিন ছবি ও একটি রঙিন মানচিত্র, যা পাঠকদের কাছে বিষয়টিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বক্তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, উত্তর দিনাজপুর জেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বুঝতে এই গ্রন্থ অনন্য ভূমিকা নেবে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে ড. বৃন্দাবন ঘোষ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে গামারী নদী কেন্দ্রিক তাঁর প্রজেক্ট নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। নদী সংরক্ষণ ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় মানুষের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে নদী-কেন্দ্রিক সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে এবং নদী রক্ষার প্রেরণা জোগাবে।








