#মালবাজার: ১৮৪ জন জীবিত শ্রমিককে মৃত দেখিয়ে তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিংক ইন্সুরেন্স’য়ের জমা টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকের ধরণীপুর চা বাগান। ডুয়ার্সের ডায়না নদীর পারে অবস্থিত ধরণীপুর চা বাগান গত কয়েক বছর যাবত অচল অবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে। প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক কোনক্রমে জীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বেঁচে রয়েছেন। এইরকম অবস্থায় তাদের অবসরপ্রাপ্ত কালীন সময়ের অন্যতম ভরসা প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিংক ইন্সুইরেন্স’য়ের অর্থ। সেই ভরসার জায়গা আজ বিপন্ন।

১৮৪ জন জীবিত শ্রমিককে মৃত দেখিয়ে তাদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ করেছেন আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নাগরাকাটা ব্লক কমিটির সম্পাদক বিকাশ বারলা। রীতিমতো চা বাগানের শ্রমিকদের সাথে নিয়ে এবং সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় বরাইক’য়ের উপস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিকাশ বারলা বলেন, “গত ২০২৪ সালে শ্রমিকদের সূত্রে খবর পেয়ে ২৪ জন শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ড নম্বর অনুযায়ী খোঁজ করি।

দেখতে পাই তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ইডিএলআই’য়ের অর্থ কে বা কাহারা তুলে নিয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে জীবিত সেই সব শ্রমিকদের মৃত বলে দেখানো হয়েছে। পরে আমরা জানতে পারি যে ১৮৪ জন শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ইডি এল আই এর অর্থ একইভাবে কে বা কাহারা আত্মসাৎ করেছে “।
উদাহরণ দিয়ে শ্রী বাললা বলেন, এখানে উপস্থিত রয়েছেন সুশীলা মুরমু নামে এক মহিলা শ্রমিক। তার ইডিএলআই এর প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের কুড়ি হাজার টাকা তাকে মৃত দেখিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে।

সেই টাকা জমা পড়েছে তার মেয়ে বলে পরিচিত এক মহিলার একাউন্টে। অথচ সুশীলা মুরমু’য়ের কোন মেয়ে সন্তান নেই। এইভাবে বিভিন্ন একাউন্টে শ্রমিকদের অর্থ স্থানান্তর হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে আমরা আগামীকাল বিভাগীয় প্রভিডেন্ট ফান্ড দপ্তরে শ্রমিকদের সাথে নিয়ে যাব। সমস্ত ঘটনা জানিয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানাবো।

প্রয়োজন হবে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে যাব এবং বিরাট এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঠিক তদন্ত ও সত্য প্রকাশের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানাবো। এই বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বিভাগীয় পিএফ কমিশনার পবন বনশল বলেন, এই বিষয় নিয়ে যদি কোন শ্রমিক অভিযোগ জানান তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








