
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জ: নিজের হাতে তৈরি কাগজের কোলাজে প্রস্তুত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিকৃতি। সেই শিল্পকর্ম এবার মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই তুলে দিতে চান বাহিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিপ্লব কুমার মন্ডল। নিজের তৈরি প্রতিকৃতি নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে নিছক শিল্পসৃষ্টির আনন্দ নয়, বরং শিল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা।

বিপ্লববাবু দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গুণীজন ও মহৎ ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি তৈরি করে আসছেন। কখনও রং-তুলিতে ছবি আঁকেন, কখনও আবার মাটি কিংবা অন্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন তাঁদের মূর্তি। নিজের তৈরি শিল্পকর্ম স্কুলের শিশুদের সামনে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে তাদের পরিচিত করান তিনি।

বিপ্লব কুমার মন্ডলের কথায়, “আমি অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন গুণীজন ও মহৎ ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি তৈরি করছি। কখনও ছবি এঁকে, কখনও মাটি বা অন্য কোনও উপকরণ দিয়ে মূর্তি বানিয়ে স্কুলের শিশুদের দেখাই। তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো আমাদের কর্তব্য। পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে এবং গুণীজনদের আদর্শে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে এই কাজগুলি করি।”

এ বার কাগজের কোলাজে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিকৃতি তৈরির মধ্য দিয়েও নিজের সেই শিল্পভাবনাকে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে নিজের তৈরি শিল্পকর্ম তুলে দেওয়া তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত আত্মতৃপ্তির বিষয় নয়। বরং বহু মানুষের সামনে এই শিল্পকলাকে তুলে ধরে তার প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিপ্লব বাবু বলেন, যে গ্রামে আমার জন্ম, সেই গ্রামে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। তবে এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি সামাজিক ভাবনা। শিল্পকলাকে কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ, বিশেষত আদিবাসী মহিলাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলার কাজও করছেন বলে জানিয়েছেন বিপ্লব বাবু। তাঁর আশা, শিল্পের এই সম্ভাবনা এবং মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে পারলে তা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর উদ্যোগের পথ খুলে দিতে পারে।

একজন শিক্ষক হিসেবে শিশুদের মধ্যে মনীষীদের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং একজন শিল্পী হিসেবে সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এই দুই ভাবনাকেই একসূত্রে বাঁধতে চান বিপ্লব পাল। নিজের হাতে তৈরি কাগজের কোলাজের প্রতিকৃতিকে সেই ভাবনারই বাহক করে তুলতে চান তিনি। এখন প্রশ্ন একটাই, এত জনতার ভিড়ে আদৌ কি মুখ্যমন্ত্রীর সামনা সামনি হতে পারবেন ওই গুণী শিল্পী, সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।




