
#শিলিগুড়ি: পাহাড়ের পথে বেড়াতে গিয়ে যাতে কোনও পর্যটককে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই সান্দাকফু ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে প্রশাসন। এবার থেকে সান্দাকফুর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে মনেভঞ্জন ও মেঘমায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে পর্যটকদের। চিকিৎসকের পরীক্ষায় উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়ে ছাড়পত্র মিললেই তাঁরা এগোতে পারবেন সান্দাকফুর পথে। এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

জানা যাচ্ছে,গত তিন বছরে সান্দাকফুতে অন্তত ১০ জন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ, উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মতো বিষয়গুলি পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত, উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতা ও শারীরিক ধকল অনেকের ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। মনেভঞ্জন ও মেঘমায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে কোনও পর্যটক সান্দাকফু যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেলেই মিলবে পরবর্তী যাত্রার অনুমতি।

পর্বতারোহী পার্থ প্রতীম রায় বলেন, সান্দাকফু পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম শৃঙ্গ, উচ্চতা ৩৬৬৩ মিটার এবং অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কাঞ্চনজঙ্ঘা-সহ হিমালয়ের তুষারাবৃত শৃঙ্গের দৃশ্য এবং ট্রেকিংয়ের আকর্ষণে প্রতি বছর বহু পর্যটক সেখানে যান। তবে পাহাড়ের উচ্চতা ও দুর্গমতার কথা মাথায় রেখে পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সরকার যে পদক্ষেপ নিতে চলেছে সেটা সমর্থনযোগ্য।

নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সান্দাকফু ভ্রমণের আগে পর্যটকদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পদ্ধতি, ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং কবে থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।




