#মালবাজার: মালবাজার শহরের উত্তর -পুর্ব কোনে রয়েছে শহরের পুর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া মাল নদীর সরক সেতু। সেতু সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭৫ বছর ধরে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়ে আসছে। স্থানটি বিসর্জন ঘাট হিসাবে পরিচিত। একদিকে প্রবাহমান পাহাড়ি নদী অন্যদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই স্থানকে করে তুলেছে মনোরম।

২০২২ সালে দূর্গা পূজার দশমীর বিসর্জনের সময় আচমকা হড়পা বানে ৮ জন প্রাণ হারান।
জখম হয় আরো চোদ্দ জন। মর্মান্তিক সেই ঘটনার পর সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে নদীর ঘাট কে সুন্দর করে বাঁধিয়ে দেওয়া হয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে আলো বাতি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। সুন্দর এই বিসর্জন ঘাট স্থানীয় মানুষের কাছে এক অবকাশ যাপনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এহেন এক সুন্দর জায়গা গত বছরখানেক যাবত শহরের বিভিন্ন এলাকার জঞ্জাল ফেলার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন হাট বাজার, দোকান হাসপাতাল এলাকার জঞ্জাল এখানে এসে জমা হচ্ছে। নোংরা আবর্জনা ও প্লাস্টিকের স্তুপ তৈরি হয়েছে। সেই প্লাস্টিক পোড়ানো হচ্ছে। এতেই বাড়ছে দূষণ, নষ্ট হচ্ছে ঘাটের সৌন্দর্য। স্বচ্ছ নদীর জল ক্রমাগত দূষণের শিকার হচ্ছে।
এতেই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এলাকার পরিবেশপ্রেমীরা।
পরিবেশ প্রেম মানবেন্দ্র দে সরকার বলেন, এভাবে নদীর কিনারে জঞ্জাল আবর্জনা খাওয়া উচিত নয়। এতে যেমন সৌন্দর্য নষ্ট হয় পাশাপাশি পরিবেশে দূষণ ছড়ায়। তাছাড়া প্লাস্টিক পোড়ালে বায়ু দূষণ হয়। প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত।

পরিবেশ প্রেমী স্বরূপ মিত্র বলেন, আমরা বহুবার এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি কিন্তু কোন ফল হয়নি। এই ঘটনার ফলে পরিবেশ এবং নদী দুটোই দূষণের শিকার হচ্ছে। নদীর নিম্ন অববাহিকায় নদীর জল কৃষি কাজে ব্যবহার হয় এবং গবাদি পশু পান করে। তাদের কাছে এই দূষণ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

জানা গেছে, মাল নদী শহর পেরিয়ে দক্ষিণ অভিমুখে তেশিমলা ও কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেখানকার মানুষ এই নদীর জল দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে। তাদের কাছে জল দূষণ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে পরিবেশ প্রেমীদের অভিযোগ। যদিও মাল পৌরসভার পক্ষ থেকে জানা গেছে, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ চলছে সেই কাজ হয়ে গেলে জঞ্জাল নিয়ে সমস্যা থাকবে না। পরিবেশ পরিষ্কার হবে।






