
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ইসলামপুর মহকুমায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রকের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। এবার এই দাবী পূরণ করতে অগ্রসর হলেন কেন্দ্রীয় সরকার।

রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, ইসলামপুর মহকুমা এলাকায় আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে একটি গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় নিজেরাই জমি দিতে প্রস্তুত রয়েছে। কেন্দ্রীয় আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে যে সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
১) একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় (EMRS),
২) ন্যাশনাল এডুকেশন সোসাইটি ফর ট্রাইবাল স্টুডেন্টস (NESTS),
৩) স্বল্প সাক্ষরতা জেলাগুলিতে আদিবাসী মেয়েদের শিক্ষার প্রসার প্রকল্প,
৪) স্পেশাল সেন্ট্রাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু ট্রাইবাল সাব-স্কিম (SCA to TSS),
৫) ট্রাইবাল সাব-প্ল্যান এলাকায় আশ্রম স্কুল।
সাংসদের বক্তব্য, আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে একটি উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দিকনির্দেশ ও সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এরপরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রক। ওই চিঠিতে রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিবকে জানানো হয় যে, সাংসদের পাঠানো প্রস্তাবের একটি অনুলিপি তাঁদের কাছে এসেছে। পাশাপাশি মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করা হয়, সংবিধানের ২৭৫(১) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রদত্ত অনুদানের প্রভিসোর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা রাজ্য সরকারের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং স্টেট লেভেল এক্সিকিউটিভ কমিটি ও মন্ত্রকের প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল কমিটির অনুমোদনের পর কার্যকর হয়।

চিঠিতে আরও অনুরোধ জানানো হয়েছে, প্রস্তাবটি যদি নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়, তবে আগামী বছরের জন্য রাজ্য সরকারের বার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।








