#মালবাজার: স্থানীয়দের দাবিতে রাস্তার কাজের সূচনা করতে গিয়ে প্রথম দিনেই হোঁচট খেলো পূর্ত দপ্তর। ঘটনাটি ঘটেছে মাল ব্লকের তেসিমলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুই নম্বর গুমটিতে। উল্লেখ্য, মাল ব্লকের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়ক মালবাজার থেকে বড়দিঘী বাজার হয়ে লাটাগুড়ি, ময়নাগুড়ি অভিমুখে চলে গেছে। কুমলাই ও তেশিমলা দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কয়েকটি চা বাগানের যাতায়াতের একমাত্র লাইফ লাইন এই রাজ্য সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যানবাহন এই পথ ধরে চলাচল করে।

এই সড়কের মালবাজার থেকে বড়দিঘী বাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাস্তার ব্ল্যাক টপ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার মাঝে জল জমে মারাত্মক আকার নিয়েছিল। বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ও ঘটেছে। এহেন বেহাল রাস্তার হাল ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী গত বছরই ১৩.৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। তারপর টেন্ডার হয়েও পরে বাতিল হয়ে যায়। রাস্তা নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বেশ কয়েকবার পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

অবশেষে গত সপ্তাহে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেনী কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী বুলু চিকবাড়াইক এবং পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা রাস্তা পরিদর্শন করে। সেই পরিদর্শনের সময় জানানো হয়,রবিবার এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাস্তার কাজের সূচনা হবে।
রবিবার দুপুরে দুই নম্বর গুমটি এলাকায় রীতিমতো মঞ্চ সাজিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং রাস্তার কাজের সূচনা অনুষ্ঠান ছিল।

সেই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইক, পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুশীল কুমার প্রসাদ, তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জয়ন্তী বর্মন, উপপ্রধান অয়েরেশুল আম্বিয়া সহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকার ও আধিকারিকরা জানান, বর্তমানে রাস্তার গর্ত সারাই করে রাস্তার মজবুতীকরণ এর কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে অনুমোদন এলে নবনির্মাণ শুরু হবে। এই কথা বলতেই সাধারণ মানুষ বেঁকে বসেন। তারা দাবি করেন যে রাস্তা মজবুতিকরণ নয়, পুরোপুরি সংস্কার করে নবনির্বাণ করতে হবে।

এটাই পরস্পর বাকবিতন্ডা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তোলেন জোড়া তালি নয়, নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ বাক বিতান্ডার পর পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা পাঁচ দিনের সময় জান এবং জানান, পাঁচ দিন প্রাথমিকভাবে রাস্তার গর্ত সারাই করে চলাচলের মতো করে তোলা হবে। পরবর্তীতে উপর মহলের অনুমোদন এলে রাস্তার কাজ নতুনভাবে শুরু হবে।

এরপর উভয় পক্ষের আলোচনার শেষে ধুপ জ্বালিয়ে নারকেল ফাটিয়ে রাস্তার কাজের সূচনা করেন তেসিমলা পঞ্চায়েতের প্রধান জয়ন্তী বর্মন। জানাগেছে, আগামী পাঁচ দিন ধরে রাস্তার মজবুতীকরণের কাজ চলবে। সাধারণ মানুষের ধারণা দীর্ঘদিন বাদে রাস্তার কাজের শুরু হলেও সাজানো ঝুলে রইলো।






