Explore

Search

June 25, 2026 3:46 am

IAS Coaching

কুলিক পাখি গণনায় বাড়ল প্রজাতির বৈচিত্র্য এবং বৃদ্ধি পেল গ্লসি আইবিসের সংখ্যা

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ কুলিক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পরিচালিত হয় পাখি গণনা। যখন ওপেন বিল স্টর্ক, নাইট হেরন, করমোরেন্ট ও এগ্রেটসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ছানাগুলি নবজাতক হয়ে ওঠে। এই সময়ই তাদের প্রজনন আচরণ ও সংখ্যাগত পর্যালোচনা সবচেয়ে কার্যকরভাবে সম্ভব হয়। এইবছরও এই গননার কাজে অংশ নেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

রায়গঞ্জের বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, এই বছর মোট ৩২টি ভিন্ন প্রজাতির ১০৯৩টি গাছ বাসা গণনার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। কুলিকের এই বার্ষিক গণনায় প্রাপ্ত তথ্য বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি অভয়ারণ্যের পরিবেশগত ভারসাম্য, প্রজনন সাফল্য এবং প্রজাতি বৈচিত্র্যের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।

তিনি জানান, এবছর নতুন গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তাঁর কথায়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাখির জনসংখ্যা নির্দিষ্ট সংখ্যায় উপস্থাপন করা হত। কিন্তু যেহেতু প্রজাতির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ সবসময় সম্ভব নয়, তাই ২০২৫ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পশ্চিম সার্কেলের প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশে নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে— যেখানে প্রজাতি অনুযায়ী পাখির সংখ্যা উচ্চ সীমা (UL) এবং নিম্ন সীমা (LL) পরিসরে প্রকাশ করা হবে এবং তাদের গড় বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণনায় প্রাপ্ত পাখির সংখ্যা নিম্নরুপ-
অভয়ারণ্যের বাইরে (Outside Forest):

নাইট হেরন — ৪৩৪

করমোরেন্ট — ৬০৫

ইগ্রেট — ৭৬৬
অর্থাৎ, মোট পাখির সংখ্যা: ১,৮০৫

এছাড়াও অভয়ারণ্যের ভিতরে (Inside Forest):

ওপেন বিল স্টর্ক — গড়ে ৬৯,৫৫৮

নাইট হেরন — গড়ে ১৫,৪৮৬

ইগ্রেট — গড়ে ৯,৯৫১

করমোরেন্ট — গড়ে ১০,২৫৩

গ্লসি আইবিস — গড়ে ১,৫০৬

ভূপেন বাবু বলেন, এ বছর ওপেন বিল স্টর্ক ও ইগ্রেটের সংখ্যা কিছুটা কমলেও নাইট হেরন, করমোরেন্ট ও গ্লসি আইবিসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এক্ষেত্রে চিহ্নিত ৩২ প্রজাতির গাছের মধ্যে শিমুল (Bombax ceiba), জারুল (Lagerstroemia spp.) ও পিথালি (Trewia nudiflora) সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বাসা বাঁধার জন্য। ওপেন বিল স্টর্কের বাসা বাঁধার ঘনত্ব শিমুল গাছে সর্বাধিক— প্রতি গাছে গড়ে ২০.৫৭টি বাসা। অপরদিকে করমোরেন্টদের বাসা বেশি দেখা গেছে চিকরাশি গাছে।

এছাড়াও, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো রেকর্ড করা গ্লসি আইবিসের সংখ্যা ছিল ২১৫। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৫০৬, যা আবাসস্থলের গুণমান বৃদ্ধির এক ইতিবাচক ইঙ্গিত। এই প্রজাতির পাখি মূলত বাঁশঝোপে বাসা বাঁধে।

পাখি গননার রিপোর্টের উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গণনা অনুযায়ী কুলিক অভয়ারণ্য পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে। ওপেন বিল স্টর্ক, ইগ্রেট, করমোরেন্ট ও হেরনের প্রজনন হার স্থিতিশীল থেকে সামান্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যাপ্ত জলাশয়, উপযুক্ত বাসা বাঁধার গাছ এবং প্রজনন মৌসুমে ন্যূনতম ব্যাঘাত— সব মিলিয়ে অভয়ারণ্যের পরিবেশ পাখিদের জন্য অনুকূল রয়ে গেছে।

পাখি গবেষণার সংগে যুক্ত পশু প্রেমী গৌতম তান্তিয়া বলেন, এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, মানবসৃষ্ট চাপ হ্রাস ও সচেতনতার মাধ্যমে পাখি সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।

 


সাম্প্রতিক গণনা নিশ্চিত করেছে যে কুলিক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এখনও উত্তরবঙ্গের এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় পাখি আবাসস্থল, যেখানে পরিযায়ী ও আবাসিক উভয় প্রজাতিই সমানভাবে টিকে আছে। অর্থাৎ কুলিক আজও রয়ে গেল উত্তরবঙ্গের ‘বার্ড হেভেন’।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja