
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের স্থানীয় বাজারে রঙিন প্রদীপের চাহিদা এবার তেমন নেই। ফলে এখানকার কারিগরদের তৈরি প্রদীপ এখন উড়ছে দেশ-বিদেশের বাজারে — দুবাই, আমেরিকা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশসহ নানা জায়গায়। স্থানীয়ভাবে বিক্রি না হলেও বাইরের বাজারে রপ্তানির ফলে লাভের মুখ দেখছেন এলাকার মৃৎশিল্পীরা।

রায়গঞ্জ থানার মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সুভাষগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে দেখা গেল, সারি সারি রঙিন প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। কেউ রঙ দিচ্ছেন, কেউ ছাঁচে গড়ছেন, কেউ বা প্যাকিং করছেন।

প্রদীপ তৈরি করতে করতে মৃৎশিল্পী সাধনা পাল জানালেন, “এই সময়টা আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। দিনে প্রায় ১০০টা প্রদীপ তৈরি করি। পাইকারি বাজারে প্রতি প্রদীপে গড়ে ২ টাকা দাম পাই। কিন্তু এখন মানুষ বৈদ্যুতিক টুনি বাল্বের দিকে ঝুঁকছে, তাই স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম।”

আরও এক মৃৎশিল্পী, রীমা পাল বলেন, “আগে এই সময় প্রচুর অর্ডার আসত। এখন সরষের তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রদীপে আলো জ্বালাতে মানুষ আগ্রহী নয়। তাই চাহিদা অনেক কমে গেছে।”

সুভাষগঞ্জের সারদাপল্লীতে মদন সাহার কারখানায় গিয়ে দেখা গেল, ২২ জন মহিলা শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন এই রঙিন প্রদীপ। শ্রমিক বিশাখা পাল বলেন, “আমরা রঙ করে প্রদীপগুলো বাক্সে প্যাক করি। শুনেছি এই প্রদীপ নাগপুরসহ নানা জায়গায় পাঠানো হয়। সেখানেই নাকি এর ভালো দাম মেলে।”

কারখানার ম্যানেজার রাজ কুমার পাল জানান, “স্থানীয় বাজারে বিক্রি কম হলেও বাইরের রাজ্যগুলোতে, যেমন বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রে ভালো চাহিদা আছে। এছাড়া দুবাই আর আমেরিকাতেও এই রঙিন প্রদীপ রপ্তানি হয়। আমরা নিজেরাও তৈরি করি, পাশাপাশি আশেপাশের ছোট কারিগরদের কাছ থেকেও সংগ্রহ করি।”

সব মিলিয়ে, সুভাষগঞ্জের এই মৃৎশিল্পীদের ঘরে এবার দীপাবলির আলো জ্বলবে সেই রঙিন প্রদীপের বিক্রিত অর্থে। নিজেদের ঘরের অন্ধকার দূর করতে তারা আলো পাঠাচ্ছেন দূরের দেশেও।






