
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শারদীয় উৎসবের আবহে মহাষষ্ঠীর সকালেই মানবিকতার অনন্য বার্তা রাখলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষিকা মধুরিমা কর। নিজের জন্মদিনে, রবিবার সকালে উদয়পুরের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করলেন।

সংগঠন গনদর্পন-এর স্বেচ্ছাসেবকদের সামনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে মধুরিমা বলেন, “মানুষের জীবনে মৃত্যুই শেষ সত্য। আমি চাই, আমার মৃত্যুর পর আমার শরীর কারও জীবনে আলো জ্বালাতে পারে। অঙ্গদান মানে অন্যকে নতুন জীবন দেওয়া। যদি আমার অঙ্গ দিয়ে অন্তত একজন মানুষ বেঁচে যান, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় জন্মদিনের উপহার।”

মধুরিমার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁর পরিবারও। বাবা-মা ও আত্মীয়রা জানিয়েছেন, মেয়ের এই উদ্যোগে তাঁরা গর্বিত। তাঁদের মতে, সমাজে এমন সচেতনতার প্রসার ঘটলে বহু মানুষ মৃত্যুর পরেও অন্যের জীবনে আলো ছড়াতে পারবেন।

গনদর্পনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অঙ্গীকার সমাজে দেহ ও অঙ্গদানের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মধুরিমার এই পদক্ষেপ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ষষ্ঠীর সকাল তাই শুধু দেবীপক্ষের সূচনা নয়, মানবিকতার পক্ষে অঙ্গীকারবদ্ধ এক গবেষিকার জীবনদর্শনের সাক্ষী রইল।









