
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে মার্চেন্ট ক্লাব মাঠ একসময় ছিল শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র। অথচ এখন সেই মাঠই দখল নিয়েছে চারচাকা গাড়ি, এ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল আর টোটো। খেলার বদলে মাঠজুড়ে চলছে পার্কিংয়ের ব্যবসা, জমছে পুরসভার নোংরা, খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্থানান্তরযোগ্য টয়লেট। ফলে মাঠটি কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভোর হতেই বহিরাগত গাড়ি ভিড় জমায় মাঠে। দক্ষিণ প্রান্ত জুড়ে পুরসভার আবর্জনার স্তূপ, আর তার গা ঘেঁষেই খোলা টয়লেট থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। উত্তর ও পশ্চিম অংশ দখল করেছে রোগী দেখাতে আসা লোকজনের মোটরসাইকেল-টোটো আর খাবারের দোকান। মাঠে সবুজের কোনো চিহ্ন নেই—এবড়োখেবড়ো হয়ে থাকা মাটিতে খেলা তো দূরের কথা, হাঁটাচলাও দুষ্কর।

স্থানীয় বাসিন্দা অভিষেক রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরে যেখানে খেলার মাঠের অভাব প্রকট, সেখানে এমন একটি মাঠ শিশুদের জন্য অচল হয়ে পড়া সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টিতে গাড়ি চলাচল করায় গোটা মাঠটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

শিক্ষিকা শর্মিষ্ঠা পাল জানান, “উত্তর দিকে পার্কিং, পশ্চিমে দোকান, দক্ষিণে জঞ্জাল—মাঠটি এখন ভাগাড় ছাড়া আর কিছু নয়।” এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন ফুটবলার রাজকান্ত ঝাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “টাউন ক্লাব মাঠে খেলোয়াড়দের ভিড় সামলানো দায়। অথচ পাশের মাঠটি অযত্নে পড়ে রয়েছে। খেলোয়াড় তৈরির জন্য মাঠটিকে পুনরায় খেলার উপযুক্ত করে তোলা জরুরি।”

মাঠ সংলগ্ন রামকৃষ্ণ বিদ্যাভবনের পরিচালনা সমিতির সভাপতি তপন নাগ জানান, “আমরা ইতিমধ্যেই মাটি ফেলে মাঠ উঁচু করার উদ্যোগ নিয়েছি। গাড়ি পার্কিং বন্ধে স্থানীয় ডাক্তারদের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার রুখতে পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।” শহরের মানুষ আশা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে একসময়ের প্রাণের মাঠটি আবারও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার ঠিকানা হয়ে উঠবে।








