
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জ শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, নতুন প্রাইভেট বাস টার্মিনাস তৈরির। এতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থ ছাড়াও স্থানীয় বিধায়কের তহবিল থেকে বরাদ্দ হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। ঘটা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। শিলান্যাসের পর আশার আলো দেখেছিলেন শহরবাসী। ভেবেছিলেন, শহরের যানজট সমস্যা মিটবে।

কিন্তু বাস্তবে সেই আশা এখন ধুলোয় মিশছে। উদ্বোধনের শিলালিপি আজও পড়ে আছে অবহেলায়, অথচ কাজের নামে একটিও কোদাল পড়েনি মাটিতে। নির্দিষ্ট জায়গাটি দিন দিন জঙ্গলে ভরে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বাসিন্দাদের একাংশ হতাশা প্রকাশ করেছেন। উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা রীতিমতো পুজোর মুখে পেটে গামছা বেঁধেছেন বলে গুঞ্জন ভাসছে শিলিগুড়ি মোড় এলাকায়।

জানা গেছে, শহর জুড়ে প্রতিদিনই তীব্র যানজট হয়। পূর্ত দপ্তরের বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছিলেন, শহরের বাইরে প্রাইভেট বাস টার্মিনাস তৈরি হলে যানজট অনেকটাই কমবে। কিন্তু কাজ শুরু না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। স্থানীয় দোকানদার দীপঙ্কর দাস বলেন, “উদ্বোধনের দিন এত আয়োজন হলো, মন্ত্রী থেকে নেতা সবাই এলেন। কিন্তু তার পর? এখন শুধু জমি হস্তান্তর হয়েছে বলে শুনেছি, কিন্তু কাজ নেই।”

কবে কাজ শুরু হবে, তা নিয়ে পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। তবে রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপার্সন সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ওই নিচু অঞ্চলে ভরা বর্ষায় কাজ শুরু করা যায়নি। বর্ষা পার হলেই সীমানা প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু হবে। আগামী বছরের শুরুর দিকে তো বিধানসভা ভোট। তার আগে কি পৌর বাস টার্মিনাসের কাজ শেষ হবে, জানতে চাইলে সন্দীপ বাবু বলেন, “শহরের সকলের বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে।”









