#মালবাজার: রাজ্য সরকারের বর্তমানে উল্লেখযোগ্য জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান। গোটা রাজ্য জুড়েই এই কর্মসূচি চলছে। এহেন এক সরকারি কর্মসূচিতে শনিবার মাল ব্লকের তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০/১৩৮-৩৯-৪০ অংশে সিপিএম ও তৃনমুল কংগ্রেসের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ক্রমেই তা হাতাহাতিতে রুপান্তরিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মাল থানার আইসি সৌম্যজিৎ মোল্লিকের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী। পুলিশের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সিপিএমের কর্মীরা মাল – বড়দীঘি রাজ্য সড়ক সাময়িক অবরোধ করে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ।তার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরে স্বাভাবিক হয়। মাল ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০/১৩৮-৩৯-৪০ অংশ এলাকা সিপিএমের দখলে রয়েছে। এই তিন বুথের পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য সিপিএমের। এদিন এই এলাকায় স্থানীয় বিএফ পি স্কুলে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচির বসেছিল। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট ভিডিও তৌফিক আলী। এই শিবিরে স্থানীয় সিপিএম পঞ্চায়েত সদস্যদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে সমাধানের দাবি জানিয়ে তালিকা দেওয়া হয়।

সেই লিস্টে পক্ষপাতিত্ব হয়েছে অভিযোগ জানান স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। এটাই পরস্পর বাদানুবাদ শুরু হয়। বাদানুবাদ হাতাহাতিতে রূপান্তরিত হয়ে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করার চেষ্টা করে । এই সময় দুই সিপিএম কর্মীকে পুলিশ আটক করলে সিপিএমের কর্মীরা পথ অবরোধ করে বসেন। পরে পুলিশের গাড়ি থেকে এক প্রকার ওই দুই কর্মীকে ছাড়িয়ে আনেন। সিপিএমের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দু রায় বলেন, আজ যে এলাকায় এই কর্মসূচি হচ্ছে সেই এলাকার নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য সিপিএমের।

আমরা বিরোধীদের বলেছিলাম সবাই আসুন একসাথে মিলে এলাকার সমস্যার সমাধান করি। কিন্তু বিরোধীরা আমাদের কথা শোনেনি। পরে আমরা যখন সমস্যা বিষয়ক লিস্ট দেই তখন তৃণমূল কর্মীরা এসে ঝামেলা করে। এটাই বিবাদ সৃষ্টি হয় । তৃণমূলের নির্দেশে পুলিশ আমাদের দুই কর্মীকে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে আমরা পুলিশকে বুঝিয়ে তাদের ছাড়িয়া নি। তৃণমুল কংগ্রেসের সদস্যরা উদ্দেশ্য প্রমাণিত ভাবে ঝামেলা করেছে।

অপরদিকে যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা স্থানীয় বাসিন্দা আরমান আরশাদ বলেন, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান সরকারি কর্মসূচি। এখানে সাধারণ মানুষ তাদের অভাব অভিভাবক জানাবেন এটাই নির্দেশ। কিন্তু সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্যরা মানুষের কথা অগ্রাহ্য করে নিজেরাই একটা লিস্ট দিয়েছে। সেখানে মানুষের সমস্যার কথা নেই। তৃণমূলের কর্মীরা এর প্রতিবাদ করেছে। এতেই সিপিএমের লোকজন মার মুখি হয়ে ওঠে। ওরা সরকারি জনকল্যাণমুখী একটি কর্মসূচি বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ গোলমাল এর জন্য শিবিরের কাজকর্ম সাময়িক ব্যাহত হলেও পরে স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়।








