
#রায়গঞ্জ: সোমবার বিকেলে পরপর দুটি রেলগেট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ল রায়গঞ্জবাসী। যানজট, অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত এক বজ্রাহত রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে পৌর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলগেট প্রায় ৩০ মিনিট বন্ধ থাকে। এর জেরে শহরের মূল রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। যানজট এড়াতে বহু গাড়ি ও বাইক ঘুরপথে পুরাতন জাতীয় সড়কের রেলগেট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানেও ততক্ষণে রেলগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় আধঘণ্টা ধরে বন্ধ থাকে দ্বিতীয় গেটটিও।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পাথর বোঝাই মালগাড়ি থেকে রেললাইনের দু’পাশে পাথর ফেলার কাজ চলছিল। সেই কারণেই দুটি গেটই দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এই বিষয়ে রেলের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই গেট বন্ধের সবচেয়ে করুণ পরিণতি দেখা যায় পুরাতন জাতীয় সড়কের রেলগেটে। সেখানে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে। জানা গিয়েছে, এদিন পানিশালা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন দুই ব্যক্তি – আব্দুল মজিদ (৩২) এবং রুহুল আমিন (২৮)। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রথমে অ্যাম্বুলেন্স পেতেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

কোনওক্রমে অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে আনার পথে পুরাতন জাতীয় সড়কের বন্ধ রেলগেটে আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি। প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও গেট না খোলায় বাধ্য হয়ে পরিজনেরা রোগীদের পাঁজাকোলা করে টোটোতে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয় রুহুল আমিনের।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, রেলগেট বন্ধ থাকার কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো যায়নি, তার জেরেই এই মৃত্যু। এই ঘটনায় নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।






