
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ ৪ দিন ধরে গভীর সোক পিটের ভিতরে আটকে থাকা তিনটি বিড়ালছানাকে শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করল উত্তর দিনাজপুর পিপল ফর এনিম্যালস-এর সদস্যরা। রায়গঞ্জের বারোদুয়ারি সংলগ্ন মধুপুর এলাকায় রঞ্জিত দাসের বাড়িতে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জিত দাসের বাড়ির একটি পাইপের ভিতর দিয়ে কোনওভাবে তিনটি বিড়ালছানা প্রায় ১২ ফুট গভীর সোক পিটে পড়ে যায়। চারদিন ধরে সেখানেই আটকে ছিল তারা। বিড়ালছানাগুলিকে উদ্ধার করতে গেলে বাড়ির বাথরুমের মেঝে ভাঙার পাশাপাশি সোক পিটের স্ল্যাব সরানোর প্রয়োজন ছিল।

সংগঠনের সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া বলেন, বিড়ালছানাগুলির আটকে থাকার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তর দিনাজপুর পিপল ফর এনিম্যালস-এর অফিসে খবর আসে। খবর দেওয়া হয় রায়গঞ্জের দমকল বাহিনীকেও। দমকল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও বাড়ির মালিক বাথরুম ভাঙার অনুমতি না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়নি।

পরের দিন বিষয়টি জানানো হয় রায়গঞ্জ থানায়। রায়গঞ্জ থানার আইসি সন্দীপ চক্রবর্তী বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর রায়গঞ্জ পুলিশের উদ্যোগ এবং স্থানীয় সমাজকর্মী সাগর সেনের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত বাথরুম ভাঙার অনুমতি দেন বাড়ির মালিক।

এরপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বাথরুমের মেঝে ভাঙার পর সোক পিটের স্ল্যাব সরিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১২ ফুট গভীরে তিনটি বিড়ালছানা জীবিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এরপর একটি বালতিতে দড়ি বেঁধে একে একে তিনটি বিড়ালছানাকেই নিরাপদে উপরে তুলে আনা হয়। উদ্ধারের পর তিনটি বিড়ালছানাকে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘড়ির কাঁটায় তখন প্রায় রাত ১২টা।

উত্তর দিনাজপুর পিপল ফর এনিম্যালস-এর সম্পাদক গৌতম তান্তিয়ার নেতৃত্বে সংস্থার সদস্য অনুস চক্রবর্তী, বিশাল চৌহান, সোহেল রানা, প্রণয় সাহা, সৌরভ বল, কৌস্তভ চক্রবর্তী এবং সৈকত সাহা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই শেষ পর্যন্ত চারদিন ধরে সোক পিটে আটকে থাকা তিন বিড়ালছানার প্রাণ রক্ষা হয়।

ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য উদ্ধারকাজ শেষে জল নিকাশি পাইপের মুখ সিল করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ রাতের এই উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর স্বস্তি ফেরে এলাকায়।




