
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শরতের আগমনী বার্তা এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। তার আগেই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের কুলিক পাখিরালয়ে পরিযায়ী পাখিদের বার্ষিক গণনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। সোমবার এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বন দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতি বছর বর্ষার মরশুমে দূর-দূরান্তের দেশ থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসে ভিড় জমায় কুলিকের জলাভূমি ও সংলগ্ন এলাকায়। রায়গঞ্জের এই পাখিরালয় পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবেই পরিচিত। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও পাখিদের সংখ্যা, প্রজাতি এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে পাখি গণনার পদ্ধতি, বিভিন্ন এলাকায় পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। বন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিজ্ঞ পাখিপ্রেমী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই গণনায় অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।

রায়গঞ্জ বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা জানান, আগামী ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর কুলিক পাখিরালয়ে পরিযায়ী পাখি গণনা করা হবে। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে পাখিদের গণনা ও তথ্য নথিভুক্ত করা হবে।

প্রশ্ন উঠছে, এবার কি কুলিকে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বাড়বে? গত কয়েক বছরে পরিবেশের পরিবর্তন, জলাভূমির পরিস্থিতি, খাদ্যের জোগান এবং নিরাপদ পরিবেশের মতো বিষয়গুলি পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এবারের গণনার ফলাফল পরিবেশপ্রেমী ও পাখিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বন দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরাও আশাবাদী, সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপদ আশ্রয় পেলে কুলিকের অতিথি পাখিদের সংখ্যা আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি পাবে। এখন সকলের নজর ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বরের পাখি গণনার দিকে। সেই গণনার পরই স্পষ্ট হবে, কুলিকের আকাশে এবছর সত্যিই কি পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা বাড়ল।






