
#রায়গঞ্জঃ মাত্র ২৬ বছর বয়সেই অকালে চলে গেলেন রায়গঞ্জের উঠতি প্রতিভাবান সংগীত শিল্পী স্বাগতা মুখার্জি (লিসা)। প্যানক্রিয়াসের জটিল রোগে ভুগে শনিবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রায়গঞ্জে। একই সঙ্গে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চিকিৎসা পরিকাঠামো।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক জগতে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন স্বাগতা। সুদর্শনপুর দ্বারিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যাচক্র থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ৯৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কলকাতার এসএসকেএম কলেজ থেকে নার্সিংয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। চলতি বছরের গোড়ায় রায়গঞ্জ পুরসভার অধীনে নার্সিং স্টাফ হিসেবে কাজে যোগ দেন স্বাগতা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ডিউটি থেকে ফিরে আচমকাই তীব্র পেটে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। এরপর তাঁকে রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছুদিন আগেও ওই হাসপাতালেই নার্সিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বাগতা। কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে প্রায় সাত দিন ভেন্টিলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন স্বাগতা। শুরু হয় প্রিয়জনকে বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে হার মানতে হল পরিবারকে। শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে নিভে যায় স্বাগতার জীবনপ্রদীপ।
স্বাগতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক অমিত সরকার। তিনি বলেন, “স্বাগতা আমাদেরই সহকর্মী সঞ্জিত মুখার্জীর মেয়ে। একজন প্রতিভাবান গায়িকা, প্রাণবন্ত এক তরুণী। আজ নিজের জীবন দিয়ে যেন রায়গঞ্জে এইমস হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তাটা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেল।”
তিনি আরও বলেন, “একটি তরতাজা প্রাণ, একটি পরিবারের স্বপ্ন, একজন সহকর্মীর সন্তান চিকিৎসার ভালো সুযোগের অভাবে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেল। স্বাগতার এই অসময়ের বিদায় শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়, রায়গঞ্জের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেল। রায়গঞ্জে এইমস কেন প্রয়োজন, স্বাগতা যেন নিজের জীবন দিয়ে আজ সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেল।”
অন্যদিকে রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ীও রায়গঞ্জে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোর দাবি তুলে বলেন, আমরা AIIMS চাই। নইলে স্বাগতার মত বহু মানুষকে হারাবো আমরা। রায়গঞ্জের স্বাস্থ্য পরিষেবা অত্যন্ত বিপদজনক। এর উন্নতি একমাত্র AIIMS এর দ্বারাই সম্ভব।
স্বাগতার অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ রায়গঞ্জবাসী। একদিকে প্রতিভাবান এক তরুণীর অকালমৃত্যুর বেদনা, অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার মানুষকে বাইরে ছুটে যেতে হওয়ার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ—এই দুইয়ের মাঝেই ফের জোরালো হয়ে উঠেছে রায়গঞ্জে AIIMS-এর দাবিও। প্রতিভাবান এই শিল্পীকে নিউজ বৃত্তান্তের পক্ষ থেকে রইলো শ্রদ্ধা।










