
#মালবাজার: একজন ভুগোলের শিক্ষক থেকে কিভাবে হয়ে উঠলেন বেআইনি মাদক কারবারের পান্ডা? সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে এবং চক্রের সন্ধান পেতে মাদক কারবারে গ্রেপ্তার নাগরাকাটা ব্লকের টন্ডু জুনিয়র হাই স্কুলের শিক্ষক রঞ্জিত কুমার শিকদার ও তার সহযোগী ধীরাজ মাহাতোকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিল পুলিশ।

গত বুধবার মধ্যরাতে নাগরাকাটা ব্লকের নন্দু মোর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালান পুলিশ এবং এস এস বি। যৌথ অভিযানে সেই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ব্রাউন সুগার, জাল নোট এবং হিসাব বহির্ভুত প্রায় ৮.৫ লক্ষ নগদ টাকা।
গ্রেপ্তার করা হয় শিক্ষক রঞ্জিত কুমার শিকদার এবং বিরাজ মাহাতোকে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে তুলে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে। এই ঘটনাতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে নাগরাকাটা ব্লক জুড়ে। একজন মানুষ গড়ার কারিগর কিভাবে এতটা নিচে নামতে পারেন এবং বেআইনি কাজের সঙ্গে নিজকে জরিয়ে ফেলতে পারেন? সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

রঞ্জিত কুমার শিকদারের এটাই প্রথম অপরাধ মূলক কাজ নয়, কয়েক বছর আগে মালদহ জেলাতে থাকাকালীন মাদক কারবারের অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তারপর সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয় নাগরাকাটা ব্লকের লুকসান হাইস্কুলে। গত বছর সেই স্কুলে ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে বদলি করা হয় দন্ডু জুনিয়র হাইস্কুলে। নন্দ মোরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ থাকতেন। শিক্ষকতার আড়ালে চালাতেন বেআইনি মাদকের কারবার। বার বার বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে দলীয় জড়িয়ে পড়ার পরেও কিভাবে তিনি ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন? সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মানুষ।

বর্তমানে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নেশা জাত সামগ্রীর কারবার বেড়ে উঠেছে। তার প্রভাব পড়ছে সমাজের ছাত্র থেকে যুবকদের মধ্যে। পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনার বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান ও চালাচ্ছেন। বেআইনি নেশার সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেফতার ও হচ্ছে অভিযুক্তরা। একজন ভূগোলের শিক্ষক কিভাবে এই অপরাধ মূলক কারবারের পান্ডা হয়ে উঠলেন? এটাই প্রশ্ন হিসাবে উঠে এসেছে।








