
#মালবাজার: খেজুর গাছের ডালে ঝুলবে অজস্র বাবুই পাখির বাসা। মণ্ডপজুড়ে ফুটে উঠবে হারিয়ে যেতে বসা এক গ্রামীণ বাংলার ছবি। প্রকৃতি, পাখি আর পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে এবার নতুন ভাবনায় সেজে উঠবে ওদলাবাড়ির বিধান পল্লী সর্বজনীন দুর্গাপুজো। পাশাপাশি পুজো মন্ডপে জয়েন্ট স্কিনে ফুটে উঠবে বাবুই পাখির বাসা তৈরির খুটিনাটি ভিডিও।

এদিন খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেল ৬৭তম বর্ষের এই বিগ বাজেটের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজ। ঢাকের বাদ্যি, পুজো-অর্চনা আর উৎসবের আবহে মণ্ডপের কাজের শুভ সূচনা করেন পুজো উদ্যোক্তারা। এবারের থিম—‘খেজুর গাছে বাবুই পাখির বাসা’। অভিনব এই ভাবনায় ইতিমধ্যেই মেতেছেন পুজো কমিটির সদস্যরা।

পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য শুভদ্বীপ দত্ত বলেন, “বর্তমান সময়ে অনেক কিছুই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। ছোটরা মোবাইলের নেশায় ডুবে থাকছে, কমছে গাছপালা, কমছে পাখির সংখ্যাও। তাই পরিবেশ ও পাখিদের সংরক্ষণের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এবারের এই থিম।”

একসময় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত পাখি ছিল বাবুই। খেজুর কিংবা তালগাছের ডালে ঝুলে থাকা বাবই পাখির নিপুণ হাতে তৈরি বাসা ছিল প্রকৃতির এক অনন্য শিল্পকর্ম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্য আজ অনেকটাই বিরল। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাবুই পাখি কিংবা তার বাসা তৈরির কৌশল চোখেই দেখেনি। হারিয়ে যেতে বসা সেই স্মৃতিকেই এবার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।

মণ্ডপজুড়ে থাকবে খেজুর গাছ। সেই গাছের ডালে ডালে ঝুলবে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা। পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি হবে গোটা মণ্ডপ। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মণ্ডপের ভিতরেই তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা। প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার মৃন্ময়ী প্রতিমার কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

শুধু মণ্ডপ বা প্রতিমাতেই থেমে থাকছে না আয়োজন। থাকছে চন্দননগরের নজরকাড়া আলোকসজ্জা। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে মণ্ডপ চত্বরে থাকবে বিভিন্ন ধরনের স্টল ও প্রদর্শনী। অর্থাৎ পুজোর আনন্দের সঙ্গে প্রকৃতিকে বাঁচানোর বার্তাও পৌঁছে দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।

খুঁটি পুজোর দিন থেকেই যেন উৎসবের রং লাগতে শুরু করেছে ওদলাবাড়ি শহরে। ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে শহরের চেহারা। আর সেই বদলে যাওয়ার কেন্দ্রে এবার থাকবে খেজুর গাছ, তার ডালে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসা এবং হারিয়ে যেতে বসা প্রকৃতিকে ফিরে পাওয়ার এক সুন্দর গল্প।




