
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ দীর্ঘদিনের দাবি এবার বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। রায়গঞ্জ রেল স্টেশনের যাত্রী পরিষেবা ও পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে একের পর এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্টেশনে ইতিমধ্যেই নতুন ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ও আধুনিক ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা সচল রাখতে প্রায় ৪০টি ইমার্জেন্সি লাইটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উত্তর দিনাজপুর রেল উন্নয়ন মঞ্চের দীর্ঘদিনের দাবি ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে সংগঠনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। জানা গিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে উত্তর দিনাজপুর রেল উন্নয়ন মঞ্চের একটি প্রতিনিধি দল কাটিহারের ডিআরএম অফিসে গিয়ে ২৫ দফা দাবিসনদ জমা দিয়েছিল। সেই দাবিসনদের মধ্যে রায়গঞ্জ স্টেশনে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড, আধুনিক লাইটিং ব্যবস্থা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী পরিষেবার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সময় ডিআরএমের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের ইতিবাচক আলোচনা হয়।

এদিন সংগঠনের পক্ষে সম্পাদক অঙ্কুশ মৈত্র বলেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৬ রায়গঞ্জ স্টেশন পরিদর্শনে আসেন কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম। স্টেশনের দীর্ঘদিনের পেন্ডিং কাজ ও যাত্রী পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রেল উন্নয়ন মঞ্চের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনের দাবি, ডিআরএমের আন্তরিক উদ্যোগ এবং রেল উন্নয়ন মঞ্চের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এবার রায়গঞ্জ স্টেশনে আধুনিকীকরণের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি জানান, স্টেশনে ইতিমধ্যেই নতুন ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এই আধুনিক অ্যানাউন্সমেন্ট ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে যাবে। এর ফলে ট্রেনের আগমন, প্রস্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আরও স্পষ্ট ও আধুনিক পদ্ধতিতে যাত্রীদের কাছে পৌঁছাবে।

রেল সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় প্ল্যাটফর্ম অন্ধকার হয়ে যাওয়ার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই সমস্যা দূর করতে ডিআরএমের নির্দেশে প্রায় ৪০টি ইমার্জেন্সি লাইট বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এই লাইটগুলি প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। ফলে রাতের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও যাত্রীদের নিরাপত্তা ও চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা হবে না।
রেল আধিকারিকেরা জানান, স্টেশনে ইতিমধ্যেই চার-পাঁচটি নতুন আধুনিক ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দুটি বোর্ড বসানো হবে ওভারব্রিজে এবং দুটি প্ল্যাটফর্মে। আরও একটি বোর্ড স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বার অথবা প্রধান চত্বরে স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ডিসপ্লে বোর্ডগুলির মাধ্যমে যাত্রীরা ট্রেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজেই দেখতে পারবেন।

রেল উন্নয়ন মঞ্চের কর্মকর্তাদের মতে, রায়গঞ্জ স্টেশনের আধুনিকীকরণে এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এখনও বেশ কিছু দাবি ও কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলিও দ্রুত বাস্তবায়িত হলে রায়গঞ্জ স্টেশনের যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

দীর্ঘদিন ধরে রেল পরিষেবার উন্নয়নের দাবিতে সরব রায়গঞ্জবাসীর কাছে স্টেশনে ডিজিটাল ডিসপ্লে, আধুনিক অ্যানাউন্সমেন্ট ও জরুরি আলোর ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। এখন যাত্রীদের অপেক্ষা, নতুন ব্যবস্থাগুলি সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে কবে থেকে নিয়মিত পরিষেবা দিতে শুরু করে।




