Explore

Search

June 19, 2026 1:11 am

IAS Coaching

IIT তে আবারও সাফল্য, রায়গঞ্জের মুকুটে নতুন পালক

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ মফস্বল শহর রায়গঞ্জের কৃতী ছাত্রদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জেলার শিক্ষা মহল। দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিতে (IIT) সুযোগ পেয়েছে সৌকর্য মিত্র, সৌভিক কর্মকার ও তমোঘ্না বিশ্বাস। তাঁদের এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে শহরের সাধারণ মানুষও।

সাফল্যের গল্প শোনাতে গিয়ে সৌকর্য মিত্র জানান, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি অনলাইন কোচিংয়ের সাহায্য নিয়েছিলেন। ফুটবলপ্রেমী সৌকর্য একসময় রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। খেলাধুলা ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

হাসিমুখে সৌকর্য বলেন, “আজকাল রাত জেগে ফুটবল ম্যাচ দেখছি। আবার সময়মতো পড়াশোনাও করেছি। করোনেশন হাই স্কুলের ছাত্র হিসেবে এই সাফল্য আমার কাছে খুবই আনন্দের। বর্তমানে আমি দুর্গাপুরের এনআইটিতে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিকল্পনা করে, সময় নিয়ে পড়াশোনা করলে আমাদের মতো মফস্বল শহর থেকেও জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। Computer engineering নিয়ে আরও পড়তে চাই বড় কোনো ইউনিভার্সিটি তে AI and Machine Learning নিয়ে research করতে চাই। পাশাপাশি ছোট শহরের ছাত্রছাত্রীদেরও উৎসাহ দিতে চাই, যাতে তারা বড় স্বপ্ন দেখতে শেখে।”

অন্যদিকে মহারাজার বাসিন্দা সৌভিক কর্মকার জানান, ধারাবাহিক পরিশ্রম, শিক্ষকদের পরামর্শ এবং পরিবারের সমর্থনই তাঁকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আইআইটিতে সুযোগ পাওয়া আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। নিয়মিত অনুশীলন ও আত্মবিশ্বাসই আমাকে লক্ষ্যপূরণে সাহায্য করেছে।” সাঁতার প্রিয় সৌভিকের বাবা ব্যবসায়ী। গৃহকর্ত্রী মা জানান, সৌভিকের জন্য রায়গঞ্জে ভাড়া থাকতাম। ও বাড়ির রান্না করা খাবার পছন্দ করে। তিনি জানান, সৌভিক খুব বেশি পড়ত না। তবে অনলাইন ক্লাস খুব মন দিয়ে করত। কেমিক্যাল কোর্স টার্গেট করে সৌভিক ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের IIT তে কাউন্সিলিং করে রেখেছে।

আরেক কৃতী শিক্ষার্থী তমোঘ্না বিশ্বাসের বাবা রামা বিশ্বাস হরিরামপুর হাই স্কুলের শিক্ষক। মা মুক্তি বিশ্বাস। ২০২৫শে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেও এক বছর ডুব দিয়েছিল অনলাইন কোচিংয়ে। সে তার নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিবারের সদস্যদের। তাঁর মতে, সঠিক দিশা ও অধ্যবসায় থাকলে যে কোনও ছাত্রছাত্রীই বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। IIT তে না গিয়ে তমোঘ্না ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়েছে দূর্গাপুর NIT তে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে নিজের হাতে রান্না করতে পছন্দ করা মেয়েটি।

রায়গঞ্জের শিক্ষাবিদদের মতে, এই তিন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, গোটা জেলার ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁদের এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে যে সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকলেও মেধা, পরিশ্রম এবং লক্ষ্যপূরণের ইচ্ছাশক্তি থাকলে জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। শহরের শিক্ষা মহল আশা করছে, সৌকর্য, সৌভিক ও তমোঘ্নার এই সাফল্য আগামী দিনে আরও অনেক ছাত্রছাত্রীকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja