#মালবাজার: শনিবার রাতের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড মালবাজার শহর সহ আশেপাশের এলাকা ক্ষয়ক্ষতি প্রচুর। ভাগ্যের জেরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। শনিবার সকাল থেকে আকাশ খানিকটা মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি ছিল না। সন্ধ্যা রাতে খানিকটা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই আটটার মধ্যেই বাড়ির অভিমুখে রওনা দেন। রাত দশটা নাগাদ শুরু হয় প্রবল বর্ষণ সেই সাথে চলে বজ্র বিদ্যুৎসহ দমকা হাওয়া। সেই হাওয়ার তান্ডবে শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা পুস্পিকা বালিকা বিদ্যালয়ের তিন তলা ভবনের সম্পূর্ণ টিনের চাল লোহার পরিকাঠামো সমেত উড়ে গিয়ে পড়ে পাশের রাস্তায়।

অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে মালবাজার শহর থেকে ফাটাকান ও নিউ গ্ল্যান্ডকো চা বাগানে যাওয়ার পাকা রাস্তা। বিদ্যালয়ের সিস্টার সুধা বলেন, ” রাত সাড়ে দশটা এগারোটা নাগাদ ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। আমরা প্রার্থনা করেছি যাতে ক্ষয়ক্ষতি না হয়। তবে টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে গিয়ে পড়েছে। এখন দ্রুত মেরামত করার কাজ করতে হবে। বাচ্চারা পড়তে আসবে তাদের যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্যে করতে হবে “। দমকা হওয়ার তান্ডবে শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রেল লাইনের ধারে থাকা শীতলা ও কালী মন্দিরের উপর বিশাল এক গাছ আছড়ে পড়ে।

মন্দিরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। স্থানীয় এক মহিলা জানান, রাতে মন্দিরে কেউ থাকেনা তবে ঝড়ের হাওয়ায় মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করতে হবে। ঝড়ের তান্ডবে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা “বয়েজ টাউন ” অনাথ আশ্রমের টিনের চাল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। অনাথ আশ্রমের পরিচালক বিমল রায় জানান, মানুষের দানে আমাদের এই অনাথ আশ্রম চলে। রাতের ঝড়ে টিনের চাল ভেঙে পড়েছে। আশ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। কোনক্রমে সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে রাত কাটিয়েছি। আবার সবার সহযোগিতা নিয়ে সংস্কার কাজ করতে হবে “।

গোটা শহর জুড়ে এদিক ওদিক ভেঙে পড়ে সুপারি গাছ সহ অন্যান্য গাছ। বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে যার জেরে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। গোটা রাত শহর অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায়। বিদ্যুৎ দপ্তরে কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা শুরু করে। শেষ রাতের দিকে আবার বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।

ঝড়ের দাপটে নিউগ্লেনকো ও রাজা চা বাগানে বেশ কিছু গাছ ভেঙে পড়ে। রবিবার সকাল হতেই আকাশ পরিষ্কার হয় এবং পৌরকর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে গাছপালা কেটে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে। পুস্পিকা স্কুলের টিনের চাল রাস্তায় পড়ে থাকায় যাতায়াতে মানুষের সমস্যা হয়। তবে দ্রুত পরিষ্কার করার কাজে হাত লাগানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।






