Explore

Search

May 23, 2026 12:07 am

IAS Coaching

শিক্ষা ক্ষেত্রে ওয়ার্ক ফ্রম হোম সহ ব্যয় সংকোচনে জারি একাধিক নির্দেশিকা

#কলকাতাঃ সরকারি খরচে লাগাম টানতে এবং প্রশাসনিক কাজের গতি আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। বিকাশ ভবন থেকে জারি হওয়া এক জরুরি নির্দেশিকায় অফিস পরিচালনা, বৈঠক, বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে শুরু করে সিনিয়র অফিসারদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’— একাধিক বিষয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের Administrative Branch-এর তরফে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় মূলত ব্যয় সংকোচন, ডিজিটাল কাজের প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্য কোনো বিশেষ নির্দেশ না থাকলে দপ্তরের সমস্ত মিটিং এখন থেকে শুধুমাত্র ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আয়োজন করতে হবে। এতে একদিকে যেমন সময় সাশ্রয় হবে, তেমনই কমবে যাতায়াত ও প্রশাসনিক খরচ।

পাশাপাশি ‘পেপারলেস অফিস’ গড়ে তুলতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় জেরক্স, প্রিন্টিং বা নতুন ফিজিক্যাল ফাইল তৈরিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সমস্ত নথি ও ফাইল ‘e-office’ বা অনলাইন মাধ্যমেই প্রসেস করার নির্দেশ রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নতুন ফিজিক্যাল ফাইল তৈরি করা যাবে না এবং তার জন্য অফিস প্রধানের অনুমতি আবশ্যিক করা হয়েছে।

অফিস যাতায়াতের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে নতুন নিয়ম। সরকারি গাড়ির অপচয় রুখতে একই রুটে যাতায়াতকারী আধিকারিকদের জন্য ‘Car Pooling’ বা গাড়ি ভাগ করে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য নির্দিষ্ট রোস্টার তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। সেক্রেটারিয়েট ও ডিরেক্টরেট অফিসগুলিতে লাইট, লিফট এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাত ৭টার পর সমস্ত অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ যেমন লাইট, পাখা ইত্যাদি বন্ধ রাখতে হবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হিসেবে সিনিয়র অফিসারদের জন্য সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনিক খরচ কমানো এবং কাজের গতি বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। তবে জরুরি পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের যেকোনো দিন সশরীরে অফিসে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ডিজিটাল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা, পরিবেশ রক্ষা এবং সরকারি খরচ কমানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja